শীতকালে চীন, রাশিয়াসহ সাইবেরিয়া থেকে অতিথি পাখি বাংলাদেশে আসে। একটি দল জাতীয়তাবাদের কথা বলে কিন্তু বিদেশি নাগরিকদের প্রার্থী করছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। নির্বাচন এলেই কিছু বিদেশি নাগরিক অতিথি পাখির মতো বাংলাদেশে এসে নির্বাচন করে। নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে আবার বিদেশে উড়াল দেবে।
রোববার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বিসিক বাসস্ট্যান্ডে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “আমরা আজকে আপনাদের এলাকায় যে গুরুত্বপূর্ণ কারণে এসেছি, তা হচ্ছে— সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। আমরা জানি শাহজাদপুর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল। আপনাদের তাঁতশিল্প ব্রিটিশ ভারত আমলেও খ্যাতি অর্জন করেছে। কিন্তু বুর্জোয়া শাসনের ফলে আপনারা এর সুফল পান নাই। মধ্যস্বত্বভোগীরা আপনাদের পরিশ্রমের ফসল ভোগ করে। আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে ওয়াদা করেছি, আমরা নতুন বাংলাদেশে যার পরিশ্রম তাকেই এর মূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করব। সাইফ মোস্তাফিজ ভাই আপনাদের এলাকার রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন তাঁতশিল্পের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেছেন। দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দখলবাজ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে শাপলা কলিতে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।”
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা রেগুলার সেনাবাহিনীর সদস্যদের বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ। আধিপত্যবাদবিরোধীরা ফেলানীকে শহীদ করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রেখে দিয়েছিল। কিন্তু এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি বড় দল কী করবে, তার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয় নাই। বাংলাদেশের মানুষ এখন আর ব্যক্তিগত পাওয়ার হিসাব করে না, বরং সবাই মিলে কী পাবে, সেই হিসাব করে। আপনারা ঋণখেলাপিদের টাকা নেন কিন্তু ভোট দিবেন আগ্রাসনবিরোধীদের। আমরা এমন প্রার্থীদের ভোট দিব, যারা আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে। কোনো বিদেশি নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাব না। যারা নির্বাচনে না জিতলে অতিথি পাখির মতো বিদেশে চলে যাবে।”
হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে আহ্বান করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাদের বলতে চাই, আপনাদের অবশ্যই হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে। আপনারা যদি চান হাসিনার মতো আর কোনো দোসর বাংলাদেশে না আসুক, ফ্যাসিস্ট শাসক না আসুক, তাহলে হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে। আমরা দেখেছি, একটি দলের নেতা মাইকের সামনে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলছেন, কিন্তু তাদের নেতাকর্মীরা মাঠে-ময়দানে না ভোটের পক্ষে প্রচার করছে। ওই দলের নেতাকর্মীরা হ্যাঁ ভোট চাইলে তাদের নেতাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলবেন— গুপ্ত গুপ্ত। তাদের নেতারা অন্য দলকে মুনাফেক বলে। আমরা তাদের মুনাফেক বলতে চাই না। আশা করছি, তারা মুনাফেকি করবে না।”


