সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় এক নারী ইউপি সদস্যের লিখিত অভিযোগ, সেই অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার, অভিযুক্তদের পাল্টা বক্তব্য এবং পরবর্তীতে সাক্ষাৎকার প্রত্যাহারের আবেদনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনাক্রম নিয়ে অনুসন্ধান করেছে নাগরিক টেলিভিশন।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জুন ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আকলিমা বেগম বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনটি মূলত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের টিআর প্রকল্পের বিল উত্তোলন-সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে ছিল। ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকের চেক উত্তোলনের ক্ষেত্রে তিনি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং উপজেলা পিআইও অফিসের অফিস সহায়ক মমিনের আচরণ নিয়ে অভিযোগ তোলেন।
এরপর একই বিষয়কে কেন্দ্র করে তিনি আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া এবং পিআইও অফিসের অফিস সহায়ক মমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন।
অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য জানতে অনুসন্ধানে নামে নাগরিক টেলিভিশন। তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগকারী আকলিমা বেগম ও তার স্বামীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তারা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে নাগরিক টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে স্বেচ্ছায় তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। একই ঘটনার বিষয়ে এনসিপির একজন নেতারও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তিনি বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, অভিযোগে নাম আসা ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া নাগরিক টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। পরবর্তীতে অভিযোগকারী, তার স্বামী, এনসিপি নেতাসহ বিভিন্ন পক্ষের সাক্ষাৎকার নাগরিক টেলিভিশনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে প্রচারিত হয়।
তবে ঘটনার নতুন মোড় আসে ২০২৬ সালের ৬ জুলাই। ওই দিন আকলিমা বেগম বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আরেকটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিক টেলিভিশনে দেওয়া তার পূর্বের সাক্ষাৎকার সম্পর্কে তিনি এখন ভিন্ন অবস্থান জানাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, আগের সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্য সঠিক ছিল না এবং তিনি সেই সাক্ষাৎকার প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
ফলে একই ঘটনায় প্রথমে লিখিত অভিযোগ, পরে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার, এরপর অভিযুক্তদের পাল্টা বক্তব্য এবং সবশেষে সাক্ষাৎকার প্রত্যাহারের আবেদন—সব মিলিয়ে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক টেলিভিশনও সেই নীতি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ ও প্রচার করেছে। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নিজ দাবি। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তকারী সংস্থা বা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। নাগরিক টেলিভিশন কোনো পক্ষকে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করছে না; বরং ঘটনার ধারাবাহিকতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে। ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো অগ্রগতি হলে নাগরিক টেলিভিশন তা-ও যথাযথভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরবে।
পড়ুন : প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মাদরাসা ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ


