25.3 C
Dhaka
০৫/০৩/২০২৬, ২০:৫৮ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

এপস্টেইন ফাইলে আছেন শেখ হাসিনাও, চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত নতুন ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম।

এবার ওইসব নথি থেকে বের হয়ে এসেছে বাংলাদেশের পলাতক ও দণ্ডিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও।

হাসিনার সঙ্গে এপস্টেইনের টিমের যোগাযোগ ছিল। তবে সরাসরি শেখ হাসিনার নাম সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। এর বদলে বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

মেইলে বলতে দেখা যায়, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ২০ বছর ধরে কাজ করা নারী সহকারী লেসলি গ্রোফ এক মেইলে জানিয়েছেন, কোনো একটি অজানা বিষয়ে তার টিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন। তবে বিষয়টি কী, তা বলা হয়নি।

মেইলটি পাঠানো হয়েছে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখ রাত ১টার দিকে। মেইলের বিষয়বস্তুর নাম ছিল- জেফরি এপস্টেইন।

এদিকে শুধু শেখ হাসিনার নামই নয়- এপস্টেইন নথিতে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।

এপস্টেইনের ওই ইমেইলে উল্লেখ আছে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার পরামর্শ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে ইসরায়েলে গিয়ে নাচ-গান করেন। এপস্টেইন আরও দাবি করেন যে, ‘এটি কাজ করেছিল’।

২০১৭ সালে মোদি সত্যিই ইসরায়েল সফর করেন- যা ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর এবং তার কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটনে দেখা করেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে ভারতীয় ব্যবসায়ী অনিল আম্বানিরও যোগাযোগের উল্লেখ আছে নথিতে, যেখানে আম্বানি মোদির আমেরিকা সফরের আগে এপস্টেইনের সাহায্য চেয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

এপস্টেইন ছিলেন নিউইয়র্কের এক ধনী আর্থিক বিনিয়োগকারী, যিনি ছিলেন নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন, মানব পাচার ও যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত।

২০০৮ সালে এপস্টেইন ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক তরুণীর সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেও অত্যন্ত বিতর্কিত এক চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ১৩ মাসের হালকা শাস্তি ভোগ করে মুক্তি পান।

পরে জানা যায়, সেই চুক্তিটি ছিল বিচার বিভাগ ও স্থানীয় প্রসিকিউশনের অস্বাভাবিক ছাড়, যা এপস্টেইনকে আরও বহু গুরুতর অভিযোগ থেকে রক্ষা করেছিল। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে আবারও তার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন পাচারের অভিযোগে বড় ধরনের মামলা হয়।

এফবিআই ও ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, এপস্টেইন ‘বহু বছর ধরে’ ১৪–১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের বিশ্বজুড়ে তার বাড়ি ও ব্যক্তিগত বিমানে এনে শারীরিক নির্যাতন করতেন।

তদন্তে উঠে আসে, তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে নিজের অপরাধমূলক চক্রকে দীর্ঘদিন আড়াল করে রেখেছিলেন।

২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের কারাগারে এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেডিকেল পরীক্ষায় এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, কারাগারের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি, নজরদারি ক্যামেরা বিকল হয়ে যাওয়া এবং প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলাসহ একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসায় তার মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সম্পর্কে যা জানা গেল

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন