২২/০২/২০২৬, ১৯:২৩ অপরাহ্ণ
27.3 C
Dhaka
২২/০২/২০২৬, ১৯:২৩ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ,এক বছরেরও চালু হয়নি ৩ কোটি টাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’ পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল। হস্তান্তর করার সময় এক বছর হলেও আজও তা চালু হয়নি। এ অবস্থায় যেন বর্জের পাহাড় হয়ে উঠেছে পৌরসভার মীরগঞ্জ বাজারের একটি আবাসিক এলাকা। ফলে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। 

বিজ্ঞাপন

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়,  ৬.৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ১৭,১৬৮ জন। শুধু পৌর  শহরে প্রতিদিন বর্জ্য হয় ২ টন। মানুষের ফেলে দেওয়া বিভিন্ন আবর্জনা ও মল-মুত্র থেকে শহরের পরিবেশ রক্ষায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২ দশমিক একর জমিতে নেওয়া হয়। এতে ‘পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রণমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প। দুই কোটি ৯৮ লাখ ৪৩ হাজার একশত ৬১ টাকা ব্যয়ে ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’- এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। কাজ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘টার্ণ’  জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট তা হস্তান্তর করেন।  

কিন্তু এক বছর হলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর লোকবল সংকটে কোনো কাজে আসছে না  প্রায় তিন কোটি টাকার এ প্রকল্প। পৌরসভায় বর্জ্য পরিবহনের জন্য পাঁচটি সিএনজিচালিত অটোভ্যান, দুটি মিনি ট্রাক ও মানব বর্জ্য বহনে দুটি ট্যাংকার থাকলেও বর্জের পাহাড় হয়ে উঠেছে মীরগঞ্জ বাজারের একটি আবাসিক এলাকা। 

সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট ঘুরে দেখা যায়, প্রস্তুত রয়েছে মানব বর্জ্য থেকে সুপেয় পানি তৈরির প্ল্যান্ট। যেখানে ছাঁকনিতে ফেলা হবে মানব বর্জ্য। পরে সেই বর্জ্যের পানি গিয়ে পড়বে তিন স্তরের পাথর ও মোটা বালুর তৈরি পরপর তিনটি ট্যাংকারে। পরিশোধন হয়ে তা যাবে গোলাকার ট্যাংকারে। যেখান থেকে সরবরাহ করা হবে বিশুদ্ধ পানি। অন্য ভবনটি প্রস্তুত রয়েছে বিভিন্ন বর্জ্য থেকে জৈবসার উৎপাদনের জন্য। যেখানে বর্জ্য থেকে বাছাই করা হবে লোহালক্কড়, প্লাস্টিক ও পচনশীল দ্রব্য। পরে ওই পচনশীল বর্জ্য ও শুকনো মানব বর্জ্য থেকে উৎপাদন হবে জৈবসার। 

স্থানীয়রা বলছেন, এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে  কয়েকদিনের চালু করা হয়েছিল। তার পর থেকেই এই ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্যের প্ল্যান্ট আর চালু করা হয়নি। তাদের দাবি, বর্জ্যের স্তুপ ঠেকাতে পাশে নিচু জায়গায় পোড়ানো হচ্ছে এসব বর্জ্য। পোড়ানো বর্জ্যের ধোঁয়ায় দুষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। 

স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ মিয়া বলেন, পরিবেশকে সুরক্ষা দিতে প্লান্টটি করা হলেও তা বন্ধ থাকায় ময়লা-টয়লা পোড়ানো হচ্ছে এখানে। ধোঁয়ার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। নিঃশ্বাস নেওয়া দায় হয়েগ পড়েছে। বেশি করে বিপদে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা।
শিক্ষার্থী জয়নাল আবেদীন বলেন, স্কুলে যাতায়াত করতে অনেক অসুবিধা হয়। দুগন্ধ ছড়ি পড়ায় অনেক অসুবিধা হচ্ছে। দ্রূত প্লান্টটি চালু করার দাবি করেন তিনি।

প্ল্যান্টের ভেতরে থাকা সিএনজিচালিত অটোভ্যান চালক মহসিন আলী বলেন, শুরু দিকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও লোকজনের অভাবে এখনো তা পুরোপুরি বন্ধ। পাঁচটি সিএনজি ভ্যানে আমরা আবর্জনা পরিবহন করি। বাকী দুটি মিনি ট্রাক ও দুটি ট্যাংকার থাকলেও ড্রাইভার একজন। গাড়িগুলো এখন পড়ে আছে। ফলে বাড়ি-বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ বাদ দিয়ে শুধু শহর ও হাট-বাজারের ময়লা আনা হচ্ছে। আবর্জনার স্তুপ বেশি হওয়ায় এখন তা পুড়িয়ে ফেলতে হচ্ছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. খোকন রানা বলেন, ‘প্ল্যান্টের নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৫ সালের ফেব্রয়ারিতে পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু জনবল সংকট থাকায় তা আমাদেরই দেখাশোনা করতে হয়েছে। বেতন-ভাতাও আমরা দিয়েছি। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে জৈবসার উৎপাদন করা হলেও তা এখন বন্ধ আছে। চলতি মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত আমরা এর দেখাশোনা করব। এরপর পৌরসভার নিকট দায়িত্ব ছেড়ে দেব।

কবে নাগাদ সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য প্ল্যান্টটি পুরোদমে চালু হবে জানতে চাইলে উপজেটজহচলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন,  ‘লোকবলের অভাবে প্ল্যান্টটি এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। কমিটির সঙ্গে বসে কীভাবে এটি চালু করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

পড়ুন- আখাউড়ায় রেলস্টেশনের পকেট গেইটে বৃদ্ধের মরদেহ

দেখুন- দামের আগুনে পুড়ছে নিত্যপণ্য, ক্রেতাদের ক্ষোভ 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন