দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান জয়পুরহাটের বারো শিবালয় মন্দিরকে বৈষম্যমুক্ত করা এবং সব স্তরের সনাতনীদের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) দুপুর ১টায় জয়পুরহাট শহরের জিরো পয়েন্ট পাঁচুর মোড়ে জেলার ‘সাধারণ সনাতনী সম্প্রদায়’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বারো শিব মন্দির সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক প্রাচীন ও গৌরবময় মহাতীর্থস্থান। এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে প্রতিটি সনাতনীর অবাধ প্রবেশাধিকার ও সমান অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু বর্তমানে মন্দির পরিচালনায় নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিদ্যমান। মন্দিরে তথ্যের কারচুপি, বিশেষ ব্যক্তিকে অযাচিত প্রাধান্য দেওয়া এবং উন্নয়নমূলক কাজে অস্বচ্ছতার কারণে সাধারণ ভক্তরা মন্দির থেকে দিনে দিনে দূরে সরে যাচ্ছেন। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রাণী বলি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সঠিক নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
সমস্যা সমাধানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, এসব বৈষম্য দূর করতে বর্তমান কমিটি পুনর্গঠন করে একটি সর্বজনীন কমিটি গঠন করতে হবে; যেখানে সব স্তরের সনাতনীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে সুন্দর সুন্দর মন্দিরের কাজ হচ্ছে। সম্মিলিত চেষ্টা থাকলে এই মন্দিরকেও আরও সুন্দর ও আদর্শ মন্দিরে পরিণত করা সম্ভব। আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও যথাযথ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বারো শিবালয় মন্দিরকে একটি দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে অবিলম্বে একটি বৈষম্যহীন কমিটি প্রয়োজন।
জেলা মুন্ডা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক বীরেন চন্দ্র পাহানের নেতৃত্বে এই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট সনাতন পরিবারের সভাপতি জীবন কুমার, জেলার রায়পাড়া দুর্গা মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ সজীব রায়, জেলা মুন্ডা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-প্রচার সম্পাদক সূর্য কুমার পাহান, সদস্য নিলয় চক্রবর্তী, সাথী পাহান, মিনিমাম পাহান প্রমুখ।
পড়ুন- শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রাক্টরের চাপায় প্রাণ গেল গৃহবধূর, আহত ৩
দেখুন- মোংলায় খাল খনন কর্মসূচীতে প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম


