মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলীকে হারিয়ে, পরিবারে চলছে কান্নার মাতম। মাত্র তিন মাস আগেও যিনি দেশে এসেছিলেন, পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মানের পরিকল্পনাও করেছিলেন, আকস্মিক তার এই মৃত্যুর খবরে পরিবারটি এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছে। প্রবাসে সালেখের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী, সন্তান ও পাড়া-প্রতিবেশীরা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী নামে ৫৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে তার স্বজনরা দাবি করেছেন। গত রোববার দেশে থাকা তার স্বজনরা প্রথমে তাঁর মৃত্যুর এই খবর পান। এরপর থেকে সালেখের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত সালেখ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা (দাসপাড়া) গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশে থাকা তাঁর সন্তান ও স্বজনরা দাবি করছেন, ইরানের ছোড়া ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার বলছে, গত শনিবার ইফতারের পর পানি সরবরাহ করতে গিয়ে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর গাড়িতে পড়ে। এতে সালেখসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা সালেহকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রবাসী সালেখের বড় ছেলে আব্দুল হক বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে আহাজারি করে বলেন, আমার পুরো পরিবার শেষ বারের জন্য বাবাকে দেখার অপেক্ষায় আছে। সরকারের কাছে আমাদের এখন একটাই চাওয়া, আমার বাবার মরদেহ যেন দ্রুত দেশে আমাদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমান খসরু জানিয়েছেন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর মাধ্যমে নিহত সালেখ এর পরিবারের খোঁজখবর ও লাশ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আর নিহত সালেখের পরিবারের সাথে দেখা করে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, আমরা শুনেছি তার পরিবারের কাছ থেকে তিনি মিসাইলের আঘাতে মারা গেছেন, তবে সরকারিভাবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসার পরই তার মৃত্যুর মূল কারন জানা যাবে, লাশ দেশে পাঠানোর জন্য ইতিমধ্যে পরিবার থেকে দূতাবাসে আবেদন করা হয়েছে, সরকারি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী, জীবিকার তাগিদে প্রায় ২৭ বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। পরিবারে তাঁর মা, শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মাত্র তিন মাস আগেও তিনি দেশে এসেছিলেন, পরিবারের জন্য বড় ঘর নির্মানের পরিকল্পনা করে অর্ধেক কাজ শেষ করেই ছুটি শেষে আবার ফিরে যান প্রবাসে কাজে যোগদান করতে। আজ তাকে হারিয়ে আহাজারি করছে তার পরিবার। দিশেহারা স্বজনদের চাওয়া দ্রুত তার লাশ দেশে এনে দাফনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
পড়ুন : সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত, এলাকাবাসীর সড়ক অরোধ ও অগ্নিসংযোগ


