জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পেট্রোল পাম্প ও খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ করে দোকানপাটে তালা লাগিয়ে উধাও হয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। এতে মোটরসাইকেল আরোহী, প্রাইভেটকার চালক, ট্রাক্টরচালকসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে ঘিরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তেল মজুতের প্রবণতা দেখা দেয়। অধিক লাভের আশায় কিছু খুচরা ব্যবসায়ী ও ডিলার তেল বিক্রি বন্ধ রেখে দোকান তালাবদ্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (৭ মার্চ) পর্যন্ত ইসলামপুর পৌর এলাকার টংগের আলগা এলাকায় অবস্থিত উপজেলার একমাত্র ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ খুচরা দোকান বন্ধ রয়েছে। ফলে তেল সংগ্রহের জন্য চালকদের পাম্পে ভিড় করতে দেখা গেছে। মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন থাকলেও অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলার প্রায় ৬০ জন খুচরা বিক্রেতা এ স্টেশন থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করেন। এছাড়া পৌর শহরের গুরুস্থান মোড়ে সওদাগর পেট্রোলিয়াম, মোশারফগঞ্জ বাজারে ফকির পেট্রোলিয়াম, ধর্মকুড়া বাজারে ঝর্ণা অয়েল মিল, গুঠাইল বাজারে জাহাঙ্গীর ট্রেডার্স এবং বঙ্গবন্ধু মোড়ে মুন্নি ট্রেডার্সসহ উপজেলায় প্রায় ১০ জন ডিলার রয়েছেন। তারা মূলত সিরাজগঞ্জ ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করেন।
সওদাগর পেট্রোলিয়ামের ডিলার মিস্টার আলী বলেন, “ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। যে পরিমাণ তেল আসে, তা অল্প সময়েই শেষ হয়ে যায়।”
মুন্নি ট্রেডার্সের ডিলার আবুল কালাম জানান, প্রতিদিনের প্রয়োজনের অর্ধেক জ্বালানিও তারা ডিপো থেকে পাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক সময় দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও তেল বিক্রি বন্ধ রাখাকে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন।
এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পড়ুন : জামালপুরে সরকারের নির্দেশনা মানছে না জাবেদ ফিলিং স্টেশন


