কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে এবার প্রতিবাদও সভা ও মানববন্ধন করেছে কয়েকটি
মানবাধিকার সংগঠন।
মঙ্গলবার(১০ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে কুষ্টিয়া হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস,
জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম, কুষ্টিয়া জেলা হাব ও নারী ও
শিশু উন্নয়নসংস্থা এই কর্মসূচীর আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন
মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা
মানবাধিকার কর্মী মমতাজ আরা বেগম। এ সময় নিহত আসমা সাদিয়ার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, বাবা স.ম আশিকুল হক রুহুল,মামা রফিকুল ইসলাম ও চার শিশু সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য রাখেন,কুষ্টিয়া জেলা হাব ও কুষ্টিয়া হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস স্টেয়ারিং কমিটির সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক মিজানুর রহমান লাকী, মানবাধিকার কর্মী সালমা সুলতানা, রফিকুল ইসলাম, এম.এ কাইয়ুম, আব্দুর রাজ্জাক, ফেরদৌসি
রুবি, ও নিহত শিক্ষিকার বড় মেয়ে
তাইয়েবা।
প্রতিবাদ সভায় রুনার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন,রুনা হত্যার ঘটনা
কয়েকদিন পার হয়ে গেছে। এই সময়ে পুলিশের ভুমিকায় তারা হতাশ। পরিবারের দাবি,যে কর্মচারী রুনাকে হত্যা করেছে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় আসামী তার
পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষনিক দেখা করার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া আসামীর
বাড়ি থেকেও খাবার দেয়া হচ্ছে। রুনা হত্যার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষক জড়িত থাকার অভিযোগ করলেও পুলিশ সে বিষয়ে কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না। নিহত শিক্ষিকার বাবা ও স্বামী বলেন,
দিন যত যাচ্ছে আমরা হতাশ হচ্ছি। রুনা চলে যাওয়ায় তার ৪ শিশু সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের আগামী দিনে কিভাবে চলবে তা নিয়ে চিন্তিত।
প্রতিবাদ সভায় অন্যান্য বক্তারা শিক্ষিকা হত্যার দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে
নিহত শিক্ষক রুনার ৪ শিশু সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রীর
হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুক্তি নারী ও শিশু
উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জায়েদুল হক মতিন।
এর আগে গত ৪ মার্চ (বুধবার) বিকেলে নিজ দপ্তরে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানও নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানকে আসামি করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় মামলা করেছেন নিহত ব্যক্তির স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। মামলার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও ঘটনার সত্যতা জানতে পাঁচ সদস্যর তদন্ত টিম গঠন ও মামলার আসামী দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পড়ুন:গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু
দেখুন:নওগাঁ নির্বাচনী জনসভায় যা বললেন জামায়াত আমির
ইমি/


