বিজ্ঞাপন

ক্ষেতলালে নববধূকে জিম্মি করে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওড়ালেন তরুণী

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে এক তরুণীকে বিয়ের পর জিম্মি করে চাঁদা দাবির যে অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তা মিথ্যা বলে দাবি করেছেন খোদ ভুক্তভোগী। বৃহস্পতিবার রাতে ক্ষেতলাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই তরুণী স্পষ্ট জানান, স্বামী লিটন হোসেন নিজেই তাকে এক পরিচিত আপার কাছে রেখে গেছেন। এখানে জিম্মি বা চাঁদা দাবির কোনো ঘটনা ঘটেনি। উল্টো যারা তাকে আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছেন, তাদের সম্মানহানি করতেই স্বামী এই ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তরুণী তার বিয়ের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে লিটন হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সাত মাস আগে মোবাইলের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপর লিটন কুষ্টিয়ায় তরুণীর বাড়িতে গিয়ে টানা তিন মাস সংসার করেন। কিন্তু একদিন কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ নিখোঁজ হন তিনি। উপায় না দেখে গত রোববার (৯ মার্চ) লিটনের দেওয়া ঠিকানা ধরে ক্ষেতলাল উপজেলা সদরে এসে স্থানীয়দের শরণাপন্ন হন তরুণী। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ইউনিয়ন রেজিস্ট্রারের বাড়িতে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের নতুন করে কাবিন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তরুণী বলেন, কাবিনের পর লিটন তার প্রথম স্ত্রীকে রাজি করানোর কথা বলে আমাকে এক পরিচিত আপার কাছে রেখে যায়। কেউ আমাকে জিম্মি করেনি। ফেসবুকে আমার কোনো বক্তব্য না নিয়েই জিম্মি হওয়ার গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বরং স্থানীয়রা আমাকে পুলিশ, ইউএনও এবং চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে গিয়ে আইনি সহায়তা পেতে সাহায্য করেছেন।

লিটনের প্রথম স্ত্রীর কথা জানার পর সংসার না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তরুণী বলেন, তার আগের স্ত্রী আছে, এটা আমি জানতাম না। জানার পর তার সঙ্গে আর সংসার করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি। আমি নিজের বাড়িতে ফিরে যাব।

এদিকে, এই ঘটনায় মামুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতা আবির ইফতোখারের বিরুদ্ধে জিম্মি করে চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছিল। এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পত্রিকা ও অনলাইনে আমাকে জড়িয়ে মনগড়া খবর প্রকাশ করা হয়েছে। মেয়েটি বিপদে পড়ে সাহায্য চাওয়ায় আমি কেবল মানবিক কারণে সহযোগিতা করেছি। কোনো যাচাই-বাছাই না করেই আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে।

স্ত্রীকে জিম্মির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বামী লিটন মোল্লা বলেন, তারা আমার স্ত্রীকে জিম্মি করে রেখেছিল। তবে পুলিশের কাছে না যাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে পুরো বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, একজন মেয়ে থানায় এসে আমার কাছে পরামর্শ চেয়েছিল, আমি তাকে আইনি পরামর্শ দিয়েছি। তবে এ ঘটনায় ছেলে বা মেয়ে-কারও পক্ষ থেকেই থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : জয়পুরহাটের তিলকপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন পিন্টু

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন