বিজ্ঞাপন

বাগেরহাটের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন


বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদা বেগমের জানাজা শেষে খুলনায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশের একটি মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহগুলো দাফন করা হয়। এদিকে, মোংলায় এক পরিবারের নয়জনের মরদেহ একসঙ্গে বাড়ির উঠানে পৌঁছানোর পর শোকের মাতমে ভেঙে পড়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মোংলা পৌর শহরের ওই বাড়িতে এখন চলছে কান্না, আহাজারি ও শোকের মাতম। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পৌর বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ তার পরিবারের সদস্যরা।

নিহত ছেলের পরিবারের সদস্যগণ জানান, জুমা’আর নামাজের পর দুপুর ২টায় মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজার পর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয় ৯ জনের লাশ। এর আগে গভীর রাতে খুলনা ও রামপাল থেকে মরদেহগুলো মোংলায় নিহত রাজ্জাকের বাড়িতে আনা হয়। একই সময়ে কনের পরিবারের কয়েকজনের মরদেহ পৌঁছায় কয়রায়। অন্যদিকে মাইক্রোবাসচালক নাঈমের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গেরবুনিয়া গ্রামে। আজ ১৩ মার্চ শুক্রবার দুপুরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত সাব্বিরের (বর) পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার মিতুর সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের (সাব্বির)। রেওয়াজ অনুযায়ী বিয়ের পর বর-কনে ও কনের নানী, দাদী, ছোট বোনসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন মোংলায় । এরপর মাইক্রোবাসটি রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকা অতিক্রম কালে বিপরীত দিক দিয়ে আসা নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন। মাইক্রোবাসে ছিল কয়রার নাকশা গ্রামের মার্জিয়া আক্তার মিতু(কনে), তার বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন হারানোর বেদনায় মানুষ স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। কনের নানি আনোয়ারা বেগমের মরদেহও তাদের গ্রামের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে, সেখানে তাকে দাফন করা হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন হৃদয়বিদাড়ক দুর্ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাগেরহাট রামপালে নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোর সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন