কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় এক শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতিতে ব্যর্থ হয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের ঈশ্বরদী গ্রামে জীমুত বাহন বিশ্বাসের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ঈশ্বরদীসহ আশেপাশের গ্রামগুলো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ করে তার বাড়িতে ডাকাতি হানায় তিনি অনেকটা আশ্চর্য হয়েছেন।জীমুত বিশ্বাস কলিমহর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক জীমুত বাহন বিশ্বাস নিজের ঘরে রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় ৮ জনের মুখবাঁধা ডাকাত দল তার ঘরে ঢুকে পরে। তাদের কারো হাতে আগ্নেয় অস্ত্র আবার কারো হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিলো। এ সময় গৃহকর্তার স্ত্রী সূচিত্রা বিশ্বাস চিৎকার দিলে ডাকাতরা তাকে কাপড় দিয়ে বাঁধার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে ডাকাতরা বাড়ির পেছনের মাঠে নেমে যায়। যাবার আগে তারা গৃহকর্তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে গৃহকর্তার ফোন পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
জীমুত বাহন বিশ্বাস জানান, সংঘবদ্ধ ডাকাত দল তার ঘরে ঢুকে। তাদের প্রত্যেকের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিলো। কয়েকজন ডাকাতের হাতে আগ্নেয় অস্ত্র ছিলো। অস্ত্রের মুখে ডাকাতরা পরিবারের লোকদের এক ঘরে জিম্মি করার চেষ্টা করে। তাদের চিৎকারে কালীমন্দির এলাকার দোকানে বসা গ্রামবাসী এগিয়ে এলে ৫ মিনিটের মধ্যে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। তবে যাওয়ার আগে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে যায়। কোথায় টাকা পাঠাতে হবে তা ফোনে জানাবে বলে গেছে।অপরাধিদের চিহ্ণিত করার জন্য তিনি থানায় অভিযোগ করবেন। তিনি দোষীদের বিচার দাবি করেন।
জানিপুর ইউনিয়ন পরিষদের(ইউপি) সাবেক মেম্বর স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, তাদের এলাকা ডাকাত বা সন্ত্রাসীদের উপদ্রোপ ছিলো না। হঠাৎ করে এরা মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। এদের প্রতিহত করা খুবই জরুরী।
খোকসা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন বলেন, তেমন কিছু হয় নি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় কিছু লোক ওই বাড়িতে ঢুকে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে বলে বাড়ির মালিক দাবি করছে। ওই বাড়ির পাশে কিছু লোক তাস খেলছিলো। তারাও জানে না ডাকাতির ঘটনা। তবে ওই বাড়ি ওয়ালারা যা বলছে ওরকম না।
পড়ুন- ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে বিবেচনায় রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী
দেখুন- সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করা হয়নি কেন, প্রশ্ন বিরোধী দলীয় নেতার


