র্যাব বিলুপ্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ৯টি আন্তর্জাতিক সংগঠন খোলা চিঠি দিয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীকেও এ চিঠি দেয়া হয়।
আজ সোমবার ১৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফর্টিফাই রাইটস, আর্টিকেল নাইনটিন, সিপেজি, সিভিকাসসহ ৯টি সংগঠন এ চিঠি লিখেছে।।
চিঠিতে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ইচ্ছামতো বা বেআইনি আটক বন্ধ করা, অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, বিতর্কিত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করা এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া সংগঠনগুলো বলেছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ ও আইনগত সংস্কারের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট সুপারিশও দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপি মানবাধিকার রক্ষায় নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।এর মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, শেখ হাসিনার শাসনামলে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ নানা ধরনের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। তার পতনের পর এসব ঘটনার অনেকটাই কমে এলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইচ্ছামতো আটক এবং সাংবাদিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার মতো ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, তারেক রহমানকে পরিবর্তন আনার জন্য একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে সেসব মানুষের পক্ষ থেকে যারা একটি স্বৈরাচারী সরকারকে সরাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল।
তিনি বলেন, এ প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে তারা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে পারে। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।


