কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় জামিলাতুন নেছা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় দশ বছরের এক ছাত্রীকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা পরিচালক সাইদুল রহমানকে(৫০) আটক করেছে থানা পুলিশ। তিনি ভেড়ামারা উপজেলা শহরের মধ্যবাজার এলাকার মৃত সামছউদ্দিনের ছেলে। ভুক্তভোগী কুরআন হিফজের আবাসিক ছাত্রী।
গতকাল রোববার সকালে ঈদ-উল ফিতরের ছুটিতে মাদ্রাসা থেকে মেয়েকে নিতে আসলে বিষয়টি টের পান মা। এরপর চিকিৎসার জন্য ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে সেখান থেকে শনিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভুক্তভোগী ছাত্রীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা অভিযোগ করে বলেন, দৌলতপুর উপজেলা থেকে মাদ্রাসা দুরে হওয়ায় প্রায় নয় মাস আগে মেয়েকে জামিলাতুন নেছা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার কুরআন হিফজ শাখায় আবাসিকে ভর্তি করি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মেয়েকে মাদ্রাসায় রেখে আসি। গতকাল রবিবার ঈদের ছুটিতে মেয়েকে মাদ্রাসায় আনতে গিয়ে দেখি গায়ে জ্বর। পায়ের ব্যাথায় হাঁটতে পারছে না। কি হয়েছে জানতে চাইলে ভয়ে কিছু বলে না। বিষয়টি মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা পরিচালকের স্ত্রীকে জানালে তিনি হাসপাতালে না নিয়ে জ্বরের ওষুধ খাওয়াতে বলেন। এরপর অসুস্থ অবস্থায় মেয়েকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। মেয়ে গোপনাঙ্গে ব্যাথার কথা বলে। তখনি বুঝতে পারি আমার মেয়ের সাথে খারাপ কিছু হয়েছে। এখন রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি আছি। মেয়ের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। অক্সিজেন চলছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বলেন,মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহৃ দেখে জিজ্ঞাসা করলে বলে রিশা ম্যাডাম মারধর করেছে। এছাড়া মারধরের কথা কাউকে বলতে নিষেধ করেছে। ঘটনার পর কি ওষুধ খাইয়ে আমার মেয়েকে তারা ঘুম পাড়িয়ে রাখতো।
তিনি অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করে আরও বলেন, আমার মেয়ের শারীরিক পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। সে কোন কথায় এখন বলতে পারছে না। আমি অভিযুক্ত তিনজনের নামে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
জানতে চাইলে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. পল্লব সাহা বলেন, জ্বর এবং পায়ে ব্যাথা নিয়ে মেয়েটির পরিবার হাসপাতালে নিয়ে আসছিল। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিবার অভিযোগ তোলেন মেয়েটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। উপজেলার হাসপাতালে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপ্রতুল্যতা থাকায় পরিবার তাদের পরিচিত একজন চিকিৎসকের পরামর্শে মেয়েটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, মেয়েটির অক্সিজেন স্যাচুরেশন নিম্নগামী। এতে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। এখন মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছে। চরম ডিপ্রেসনে আছে। এর আগে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে নোটে দায়িত্বরত চিকিৎসক যৌনাঙ্গের বহি:ভাগে কোন ক্ষত না পাইলেও ইন্টারনাল ইনজুরড উল্লেখ করেছেন। যার কারণে ইনফেকশন শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। এতেই সন্দেহ করা হচ্ছে যৌন নির্যাতনের মতো কোন ঘটনা ঘটেছে। আরো বেশকিছু টেস্ট ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
তবে এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা পরিচালকের স্ত্রী শামীমা বলেন, নির্যাতন কিংবা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়। মেয়েটির জ্বর আসছিল সেটা তার মা আসার পর জানতে পেরেছি। এর আগে এমন কিছু দেখি নাই। এ বিষয়ে রিশা ম্যাডামকে জিজ্ঞাসা করেছি। মারধর বা নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, এক ছাত্রীক যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসা পরিচালককে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পড়ুন : নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিকভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে সরকার: আইনমন্ত্রী


