মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সিলেটের প্রাচীনতম সাহিত্য সংগঠন অংকুর সাহিত্য পাঠাগারের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ এবং ঈদ পুনর্মিলনীসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বুধবার (২৬ মার্চ) টুলটিকরস্থ পাঠাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাঠাগারের সভাপতি মুজাম্মেল হোসেন ইমন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও গৌরবের প্রতীক। এ দিনের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট গীতিকবি মোঃ সেলিম আহমদ খাঁন বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করতে হলে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে। তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশপ্রেম জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন টুলটিকর পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মোঃ কাবুল আহমদ। তিনি বলেন, স্বাধীনতা আমাদের অর্জিত সবচেয়ে বড় সম্পদ, যা রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা ছড়াকার সাজ্জাদ আহমদ সাজু, উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি মোঃ সাইফ উদ্দিন আহমদ সাবিল, উপদেষ্টা ও পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, উপদেষ্টা কয়েছ আহমেদ সাগর, উপদেষ্টা নাজিম উদ্দীন দুলাল, উপদেষ্টা ও পঞ্চায়েত কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ শওকত আহমদ এবং উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি আকবর কবীর সায়েম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাঠাগারের সম্পাদক মোঃ ইমাদ উদ্দিন জুসেফসহ কার্যনির্বাহী সদস্য মোশারফ হোসেন শাহী, আল-রাফি, আব্দুর রহমান এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাহিত্যপ্রেমী ও তরুণ শিক্ষার্থীরা।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ কবিতা পাঠের আসর, যেখানে স্থানীয় কবি ও সাহিত্যপ্রেমীরা দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। পরে এক আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সার্বিকভাবে, স্বাধীনতা দিবসের এ আয়োজন সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত করার একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।


