নীলফামারীর ডোমার উপজেলা ও জলঢাকা উপজেলা জুড়ে শনিবার গভীর রাতে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে নেমে আসে ভয়াবহ তাণ্ডব। অপ্রত্যাশিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি মাঠের ফসল ও বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত গভীর হতেই হঠাৎ করে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী শিলাবৃষ্টি। বড় আকারের শিলার আঘাতে মুহূর্তেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। আতঙ্কে ঘুম ভেঙে যায় মানুষের; অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে এমন তীব্র শিলাবৃষ্টির অভিজ্ঞতা তাদের হয়নি।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টির আঘাতে ভুট্টা, মরিচ, আলু ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে ঝোড়ো বাতাসে উঠতি ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, ফলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচ চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
শুধু কৃষিক্ষেত্রেই নয়, বসতবাড়িতেও নেমে এসেছে দুর্ভোগ। শিলার আঘাতে অসংখ্য টিনের ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে। গভীর রাতে বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। অনেক পরিবার রাত কাটিয়েছেন উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি পূজামণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয়দের মাঝে দুঃখ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর রহমান জানান, আকস্মিক এই দুর্যোগের পর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, “পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ শেষে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র তুলে ধরা হবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
হঠাৎ নেমে আসা এই দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা ক্ষতি কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
পড়ুন:এবার ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা
দেখুন:ভুটান থেকে কম দামে স্বর্ণ কেনার সুযোগ
ইমি/


