সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে শুরু হয়েছে কৃষকদের স্বপ্নের ফসল বোরো ধান কাটার মৌসুম। জেলার মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের টাঙ্গুয়ার হাওরের রংচী গ্রামে আজ ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে। ধান কাটার মধ্য দিয়ে হাওর এলাকার কৃষকদের দীর্ঘ দিনের পরিশ্রমের ফসল ঘরে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ হাওর অঞ্চল। প্রতিবছর এই হাওরসহ জেলার বিভিন্ন হাওরে বিপুল পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদিত হয়, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা কয়েক মাস ধরে দিনরাত পরিশ্রম করে এই ধান ফলান এবং মৌসুম শেষে ধান ঘরে তোলার মধ্য দিয়েই তাদের সারা বছরের জীবিকা অনেকটাই নির্ভর করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় ধানের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধান পাকতে শুরু করায় এখন থেকে ধীরে ধীরে হাওরের বিভিন্ন মাঠে ধান কর্তনের কাজ শুরু হবে। কৃষকেরা যাতে সময়মতো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেন সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার সকল হাওর এলাকায় ধান কর্তন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। কৃষকদের নিরাপদে ও দ্রুত ধান ঘরে তুলতে বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয় করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অকাল বন্যার ঝুঁকি মাথায় রেখে সময়মতো ধান কাটার বিষয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সুনামগঞ্জ জেলার সকল কৃষক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাতে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করে ধান কর্তন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। একই সঙ্গে জেলার সকল হাওরে যেন নির্বিঘ্নে ধান কর্তন শুরু ও শেষ করা যায়—সেজন্য জেলা প্রশাসন সুনামগঞ্জ সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছে।
হাওরাঞ্চলের মানুষের আশা, অনুকূল আবহাওয়া ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বছর কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই ধান ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকেরা এবং তাদের মুখে ফুটবে স্বস্তির হাসি।
পড়ুন:দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বালুবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের,হেলপার নিহত
দেখুন:চা বিক্রি করে সংসার চলে দিনাজপুরের জনপ্রতিনিধির |
ইমি/


