কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পেয়ারা খেতে গিয়ে দুই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার(৩১শে মার্চ) সকালে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের চরেরকান্দা এলাকায় হাজারী বাড়ি ও পাগলা বাড়ির লোকজনদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে।
এতে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (২৯শে মার্চ) বিকেলে হাজারী বাড়ির ইকবাল মিয়া ও মুসা মিয়ার দুই মেয়ে বাড়ির সামনে পেয়ারা খেতে বের হয়। এ সময় পাগলা বাড়ির সুবাহান মিয়ার ছেলে শিপন ও তার সহযোগীরা ওই দুই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে।
বখাটেরা তাদের কাছে মোবাইল নম্বর চাই এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। ছাত্রীরা সেখান থেকে চলে আসার চেষ্টা করলে শিপন এক ছাত্রীর ওড়না টেনে ধরে এবং তার সহযোগীরা অন্যজনের হাত ধরার চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগীর ছাত্রীর বাবা ইকবাল মিয়া বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শিপনের পরিবারকে জানিয়ে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে গত সোমবার (৩০শে মার্চ) স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি।
পূর্ব বিরোধের জেরে মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা মুসা মিয়া বাজার থেকে রিক্সাযোগে বাড়ি ফেরার পথে পাগলা বাড়ির লোকজন তার গতি রোধ করে মারধর শুরু করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজারী বাড়ি ও পাগলা বাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে বেশ কিছু বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট এর ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে একজনকে কিশোরগঞ্জের শহীদ ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অন্য একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ জানান, স্কুল ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার জেরে দুই বংশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন কানুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন : গাজীপুরে চিলাই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, দূর হবে জলাবদ্ধতা


