আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, গুমকারীদের বিচারে কঠোর আইন হবে। যাতে তারা আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের (আরমান) এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
ব্যারিস্টার আরমান গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন এবং মানবাধিকার কমিশন আইন বাতিলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে সংসদে এক আবেগঘন বক্তৃতা দেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রী বলেন, যারা গুম হয়েছে, তারা কেউ আমার স্বজন, কেউ প্রতিবেশী, কেউ ভাই, আমার দেশের মানুষ। উনারা যেটা নিয়ে হৈ চৈ করছেন, সেটা মনে হয় উনারা ভালো করে দেখেননি। অর্ডিন্সে যেটা করা হয়েছে, উনারা যদি আইন দুটি ভালো করে দেখতেন। ওই অর্ডিনেন্স দুটি আইনে রূপান্তর করলে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবিচার করা হবে। অমরা অন্য একটা আইনে (আইসিটি অ্যাক্ট) গুমের বিচার করবো। সেখানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু উনারা যে গুম আইনের কথা বলছেন সেখানে ১০ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রাখা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন আইন যেটা করা হয়েছে সেটি আইনে রূপান্তর করলে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষ আরও হয়রানির শিকার হবে।
তিনি বলেন, আমরা এই সংসদে আরও সুনির্দিষ্টভাবে বিল আনবো, যাতে করে অপরাধীরা কোনোভাবেই ছাড়া না পায়। ব্যারিস্টার আরমান আমার ভাই সহকর্মী, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও গুমের শিকার হয়েছেন। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, গুমকারীরা আইনের কোনো ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে। গুম আইন ও আইসিটি অ্যাক্টে যে সাজার কথা বলা হয়েছে দুইটার মধ্যে যেন কোনো সংঘর্ষিক বিষয় না থাকে সে কারণে এই আইনগুলো আমাদের যাচাই বাছাই করা দরকার।
এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ব্যারিস্টার আরমান বলেন, মাননীয় স্পিকার আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে আছি এক অন্ধকার ঘর থেকে ফিরে এসে। এখানে আমার মতো শতশত লোককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাদের আর ফিরে আসার সৌভাগ্য হয়নি। তাদের পক্ষ থেকে এবং তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিষয় আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যাচ্ছি। আমরা যারা গুমের শিকার, আমরা এক অন্ধকার ঘরে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলাম। আমরা ভেবেই নিয়েছিলাম, এই অন্ধকার ঘরেই আমাদের মৃত্যু হবে। হয়তো আমাদের হত্যা করবে, নয়তো এখানেই আমাদের মৃত্যু হবে।
আরমান বলেন, আমরা কথা বলতে পারতাম না। আস্তে আস্তে কথা বলতাম। আমরা বুঝতাম না দিন নাকি রাত। মনে হতো জীবন্ত করব দেওয়া হচ্ছে। মনে হতো মৃত্যু এর চেয়ে হাজার গুণ ভালো। মনে হতো আজ রাতেই হতো আমাকে হত্যা করা হবে। এভাবে মৃত্যুর প্রহর যখন গুনছিলাম, একদিন দেখি টেনেহেঁচড়ে আমাকে সেখান থেকে বের করছে। আমি ধরে নিয়েছি এখনই আমাকে হত্যা করা হচ্ছে। আমি সুরা ইয়াসিন পড়া শুরু করলাম যেন মৃত্যুটা সহজ হয়। পরে জানতে পরলাম কিছু বাচ্চা ছেলেমেয়ে জীবন দিয়ে, চোখ হারিয়ে, পা হারিয়ে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করে আমাদের আবার দুনিয়ার আলো দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, এই সংসদকে যদি বলতে হয়, তাহলে বলতে হবে মজলুমদের মিলমেলা। এখানে এমন একজনকেও পাওয়া যাবে না ফ্যাসিস্টদের জুলুমের শিকার হয়নি। আমি গুমের ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একটা বিষয় লক্ষ করছি, আমাদের সঙ্গে যা করা হয়েছে, সেই জুলাম যেন আর বাংলার মাটিতে না হয় সেটির জন্য যে দুটি আইন করা হয়েছিল, গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন এবং মানবাধিকার কমিশন আইন। বিশেষ কমিটি এ আইনগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে। যারা গুমের ভুক্তভোগী, যে প্রধানমন্ত্রী নিজে টর্চারের শিকার, তারা কেমন করে এ আইন বাতিলের পরামর্শ দেয় মাননীয় স্পিকার?
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

