নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ফুঁসলিয়ে ঘরে নিয়ে ধর্ষণের (বলাৎকার) অভিযোগ উঠেছে তানভীর আজান (১৭) নামের এক কিশোরের বিরুদ্ধে। বর্বরোচিত এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওই কিশোর এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে তাকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানেই শিশুটির চিকিৎসাসেবা চলছে।
জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের তারাকান্দা গ্রামে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশু ও অভিযুক্ত কিশোর উভয়েই একই এলাকার বাসিন্দা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তানভীর আজান কৌশলে ওই শিশুটিকে তাদের নিজেদের বসতঘরে ডেকে নিয়ে যায়। ঘর ফাঁকা থাকার সুযোগে সেখানে সে জোরপূর্বক শিশুটিকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি তীব্র ব্যথায় চিৎকার শুরু করলে আশপাশের মানুষ টের পাওয়ার ভয়ে অভিযুক্ত তানভীর তাকে ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, বর্বরোচিত এ নির্যাতনের কারণে শিশুটি পায়ুপথে তীব্র ব্যথা অনুভব করছে। সে যন্ত্রণায় স্বাভাবিকভাবে বসতে বা শুতে পারছে না। এ জঘন্য ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, “শিশু ধর্ষণের অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে, শিশু নির্যাতনের এমন বর্বরোচিত ঘটনায় তারাকান্দা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। পাশাপাশি পলাতক অভিযুক্ত কিশোরকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।
পড়ুন- তীব্র খরায় তৃষ্ণার্ত কয়রা, সুপেয় পানি এখন সোনার হরিণ


