মেহেরপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-তে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে ওয়েল্ডিং বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর আরিফ হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক বিধি উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষ পদে বসার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আরিফ তালুকদার ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টিটিসিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক অফিস আদেশে তাকে পুনরায় মেহেরপুর টিটিসিতে ওয়েল্ডিং বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। তবে যোগদানের পর থেকেই তিনি আবারও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন মহলে লবিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে অধ্যক্ষ পরিচয়ে প্রচার এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দিয়ে সংবর্ধনার আয়োজনের মাধ্যমে তিনি নিজ অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয় কয়েকটি ফেসবুক পেজেও তাকে অধ্যক্ষ পরিচয়ে ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
এছাড়া, বর্তমান অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে বৈঠক এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ওই কক্ষে নিজের প্রাপ্ত বিভিন্ন স্মারক উপহার সাজিয়ে রাখার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
এরই মধ্যে “মানবতার চোখ” নামের রেজিস্ট্রেশন বিহীন মেহেরপুরের স্থানীয় একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে অধ্যক্ষ শামীম হোসেন জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ বিভাগের যে সকল ছাত্ররা আরিফ হোসেন তালুকদার কে সংবর্ধনা দিয়েছে তাদের বহিষ্কার করা নির্দেশ দিয়েছেন এমন খবর প্রকাশিত হলে শহর জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বর্তমান অধ্যক্ষ ড. প্রকৌশলী মো. শামীম হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনার বাইরে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসার ক্ষমতা কারোর নেই। বদলির আদেশে তালুকদার সাহেবকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আমার অনুপস্থিতিতে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি লোকজন নিয়ে এসে কক্ষের তালা খুলে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে বৈঠক করেছেন এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সাজিয়ে রেখেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র বহিষ্কারের বিষয়ে যে কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। সবকিছুর একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটিই অনুসরণ করা উচিত, আমি এ কথাটিই বলেছি। এছাড়াও মাত্র তিন মাসের কোর্সে বহিষ্কার করার কোন বিধান নেই।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আরিফ হোসেন তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে মেহেরপুর থেকে রাজবাড়ীতে চলে এসেছি। সেখানে কি হয়েছে, তা ছাত্ররা ভালো বলতে পারবে। আমি প্রায় দেড় মাস আগে যোগদান করলেও আমাকে বর্তমান অধ্যক্ষ এখনো তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। তিনি আমার সিনিয়র, তাই তার সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে যেতে চাই না।’
তবে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ, নিজেকে অধ্যক্ষ পরিচয়ে প্রচার এবং সেখানে ব্যক্তিগত স্মারক রাখার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
এদিকে সচেতন অভিভাবক ও স্থানীয়দের একটি অংশ বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দক্ষ ও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে টিটিসির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, বিগত সময়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর টিটিসিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে আরিফ হোসেন তালুকদার তৎকালীন জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

