নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে শ্রীলঙ্কায় পাচার, জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম খন্দকার শাহ আলম (৪৫)।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শাহ আলমকে গ্রেফতার করে কেন্দুয়া থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এরআগে, এদিন সকালের দিকে তাকে রাজধানীর পল্টন থানা পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাকসুদ এই বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আগামীকাল (শনিবার) আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
চলতি বছরের গত ৫ এপ্রিল কেন্দুয়া থানায় এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী যুবকের বাবা, উপজেলার কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় কৃষক মো. শহীদুল্লাহ (৪৭)।
মামলার আসামিরা হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা খন্দকার শাহ আলম (৪৫) ও তার ভাই খন্দকার মঈনুল আলম (৪০) এবং গাজীপুরে বসবাসরত তাদের আত্মীয় মো. আরিফুল ইসলাম (৩৬)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, স্থানীয় এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে আসামিদের সাথে বাদীর পরিচয় হয়। আসামিরা নিজেদের আদম ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বাদীর ছেলে আব্দুল আউয়ালকে (২২) আজারবাইজানে কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং এজন্য সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। সরল বিশ্বাসে বাদী গত বছরে ১০ ডিসেম্বর আসামিদের হাতে নগদ পাঁচ লাখ ৬০ হাজার টাকা তুলে দেন। পরবর্তীতে টিকিটের কথা বলে গত ৭ জানুয়ারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে আব্দুল আউয়ালকে বিদেশে পাঠানোর সময় ঢাকা হজ ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর, তার হাতে ব্যক্তিগত খরচ বাবদ এক হাজার মার্কিন ডলারও দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতারক চক্র তাকে আজারবাইজানে না পাঠিয়ে শ্রীলঙ্কায় পাঠিয়ে দেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর আসামি আরিফুল ইসলাম তাকে রিসিভ করে অজ্ঞাত একটি গেস্ট হাউজে নিয়ে যায়।
গেস্ট হাউজে নেওয়ার পরই ভুক্তভোগী যুবকের কাছ থেকে এক হাজার ডলার ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে নির্জন একটি কক্ষে আটকে রেখে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। জিম্মি অবস্থায় জীবন বাঁচাতে ওই যুবক হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানান। ছেলের ওপর নির্যাতনের কথা শুনে নিরুপায় বাবা গত ১৩ জানুয়ারি আসামিদের দেওয়া ব্যাংক ও বিকাশ নম্বরে আরও এক লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে পাঠান।
মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় ভুক্তভোগী কৌশলে জিম্মিদশা থেকে পালিয়ে গেস্ট হাউজের মালিকের আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে আসামিদের পাঠানো ভিসা ও টিকিট পরীক্ষা করে সেগুলো জাল বলে প্রমাণিত হয়। অবস্থা বুঝতে পেরে গেস্ট হাউজের মালিকের সহায়তায় গত ২৯ জানুয়ারি ভুক্তভোগী দেশে ফিরে আসেন।
পুরো এই প্রক্রিয়ায় প্রতারক চক্রটি বাদীর আট লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ওসি মেহেদী মাকসুদ জানান, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, গ্রামাঞ্চলে বিদেশে চাকরির প্রলোভনে এ ধরনের প্রতারণা বাড়ছে। বিষয়টি কঠোরভাবে দমন না করলে আরও মানুষ প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পড়ুন : চরফ্যাশনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা


