জেলা অটো টেম্পু বেবি মিশুক সি, এন, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এর বাড়িয়ে দেয়া ভাড়া নিয়ে গেল কয়েকদিন ধরেই মৌলভীবাজারে চরম জনঅসন্তোষ দেখা দেয়। একেতো সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হচ্ছে, তার উপর হঠাৎ করেই যানবাহনের এই বাড়তি ভাড়া। হঠাত ঠিক কি কারনে এই ভাড়া বৃদ্ধি তা নিয়ে চরম ক্ষোভ-অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাধারন মানুষ, প্রতিবাদী হোন ছাত্র সমাজও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুঞ্জন উঠে প্রশাসন থেকেই ভাড়া নির্দারনের। এরই প্রেক্ষিতে আজ মৌলভীবাজার জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন এর প্রতিনিধিদের সাথে বসে জেলা প্রশাসন। দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় শহরে বর্ধিত ভাড়া স্থগিত করে পূর্বের ভাড়াই বহাল রাখার। এতে স্বস্থি ফিরে জনমনে।
সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এ নিয়ে, ঘন্টাব্যাপি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার পৌরসভার প্রশাসক রুবেল মাহমুদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাজিব হোসেন, জেলা পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, বিআরটি প্রতিনিধি, ট্রাফিক পুলিশ, রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতৃবৃন্দ, ছাত্র প্রতিনিধি, সাংবাদিক, পেশাজীবী সংগঠন ও শ্রমিক-মালিক প্রতিনিধিবৃন্দ।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, শহরে টমটম চালকরা কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই হঠাৎ ভাড়া ৫ টাকা থেকে ১০ টাকায় বর্ধিত করে নেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্ঠি হয়। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক কার পক্ষে নয়, জনগণের পক্ষে, জনগণের সেবা নিশ্চিতের জন্য। যেহেতু জনগণ চাচ্ছেনা এই মুহূর্তে ভাড়া বৃদ্ধি হোক সেহেতু আগের ভাড়াই বহাল থাকা যৌক্তিক। জনগণের দাবির বাহিরে আমরা যেতে পারিনা উল্লেখ করে তিনি বলেন তা নাহলে প্রতিদিনই এই সমস্যা চলতে থাকবে, যা কার জন্য সুভ হবেনা। প্রয়োজনে আমরা আর বসবো, তবে এখন মৌলভীবাজার শহরে টমটমের পূর্বের ভাড়াই ৫ টাকা বহাল থাকবে বলে, যাত্রীদের কাছ থেকে আগের ভাড়াই নেয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
এর আগে গত বৃহস্প্রতিবার (৯ এপ্রিল) এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভাড়া নিয়ে কোনো প্রকার সিদ্ধান্তে না পৌঁছালেও মৌলভীবাজার জেলা অটো টেম্পু বেবি মিশুক সি, এন, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, রেজি: নং: ২৩৫৯ এর অন্তর্ভুক্ত কমিটি ঐ দিন থেকেই ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষনা দিয়ে প্রত্যেক রুটে আগের ভাড়ার সঙ্গে ৫ টাকা বৃদ্ধি করে জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া আদায় করা শুরু করেন।
এদিকে প্রশাসন ও পৌরসভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই এভাবে ভাড়া বাড়ানোর কারণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান যাত্রীরা। হঠাৎ করেই বাড়তি ভাড়ায় সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা পড়েন বিপাকে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ছাত্রপ্রতিনিধিরা। অবশেষে জেলা প্রশাসকের হস্থক্ষেপে সবার সাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে এই বাড়তি ভাড়া স্থগিত করা হয়। এতে স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সাধারন ছাত্র-জনতা।


