নিজেদের শর্ত অনুযায়ী ইরানকে চুক্তি সইয়ে বাধ্য করতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধসহ একের পর এক চাপ প্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে হামলা শুরু হলে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এমন হুমকি দেওয়ার সময়ই হরমুজ প্রণালিতে ১২টি যুদ্ধজাহাজ, ১০০টি বিমান এবং ১০ হাজারেরও বেশি সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে সেন্টকমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্টকম দাবি করেছে, ইরানের বন্দর ও উপকূল ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই অবরোধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৪টি জাহাজকে ‘পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে’ বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের এখন আর কার্যকর নৌবাহিনী নেই, আর এ কারণেই বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন নৌবাহিনী।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিট হেগসেথ বলেন, যতদিন প্রয়োজন, ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ ততদিন জারি থাকবে।
তিনি ইরানি শাসকগোষ্ঠীর উদ্দেশে বলেন, “ইরান একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ও সোনালি সেতুবন্ধন বেছে নিতে পারে। আমরা আশা করি তারা ইরানের জনগণের স্বার্থে সেটিই করবে।”
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয়, তাহলে তাদের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত মার্কিন বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।”
পড়ুন: দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী


