কিশোরগঞ্জের বন্দরনগরী ভৈরব পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় থেকে সিলেট বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এখন জনজীবনের নিত্যদিনের যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কপথ যেন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে এক অসহনীয় দুর্ভোগের করিডরে।
বিশেষ করে সিলেট বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নাভানা সিএনজি পাম্প ও ফল মার্কেট এলাকার চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক। বাজারের সামনে স্তূপ করে ফেলে রাখা পচা ফল—বিশেষত তরমুজ—থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও যাত্রীদের নাকাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড নয়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নসহ আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে আসা হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, “শহরের প্রবেশমুখেই এখন স্বাগত জানায় পচনের দুর্গন্ধ, যা ভৈরবের সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিচ্ছে।” প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চলাচল থাকা সত্ত্বেও সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
এদিকে নিউ টাউন মোড় থেকে দুর্জয় মোড় হয়ে সিলেট বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের পাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। একাধিক স্থানে ড্রেনের স্ল্যাব ভাঙা থাকায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যা যান চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এসব ভাঙা অংশ দিয়ে প্রতিনিয়ত দোকানের ময়লা ও পচা ফল ড্রেনে ফেলা হচ্ছে, ফলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা আরও অচল হয়ে পড়ছে এবং দুর্গন্ধ বাড়ছে বহুগুণে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায়ই সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, এমনকি বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যানবাহনও এসব ভাঙা স্থানে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে জননিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ড্রেনটি সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন হওয়ায় পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—পৌর এলাকার ভেতরে এমন ভয়াবহ দুর্ভোগ চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি কেন?
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিক্স লেন প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর এন্টারপ্রাইজের অবহেলাও এ সমস্যার অন্যতম কারণ হতে পারে। পাশাপাশি পৌরসভার নিজস্ব বর্জ্য ডাম্পিং ব্যবস্থার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনবহুল এলাকায় পচনশীল বর্জ্য খোলা স্থানে ফেলে রাখা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি প্রচলিত নীতিমালার পরিপন্থী। তাই দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, জীবাণুনাশক প্রয়োগ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, একটি শহরের পরিচ্ছন্নতা কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বরং তা প্রশাসনিক দক্ষতা ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রতিফলন। তাই ভৈরব পৌরসভা, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও সড়ক ও জনপদ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর দাবি—অবিলম্বে পচা ফল অপসারণ, ভাঙা ড্রেন স্ল্যাব মেরামত এবং একটি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করা হোক, যাতে ভৈরবের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ আবারও নিরাপদ ও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।


