বিজ্ঞাপন

কেঁদে কেঁদে শ্রমিকদল নেতার বিচার চাইলেন বিএনপি নেতা!

ধার্য করা চাঁদা না পেয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বিএনপি নেতার ছেলের বিয়ে অনুষ্ঠানে হামলা ও স্বজনদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শ্রমিকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শ্রমিকদল নেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শনিবার দুপুরে রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন (দক্ষিণ) শাখার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সোহরাব হাওলাদার কেঁদে কেঁদে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার কনিষ্ঠ ছেলে রাশেদুল ইসলামের বৌভাত উপলক্ষে গত ১১ মার্চ রাতে সদর ইউনিয়নের সামুদাবাদ গ্রামের নিজ বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তার ভাগিনা উপজেলা শ্রমিকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান শাকিল ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ খবর পেয়ে উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহব্বায়ক ফিরোজ মুন্সির নেতৃত্বে তার সহযোগী জামাল ও স্বপনসহ ৪০-৫০ জন সেখানে গিয়ে সোলাইমান শাকিলকে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বলেন। অন্যথায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে অনুষ্ঠান পন্ড করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সোহরাব হাওলাদার দাবি করেন, শ্রমিক দল নেতা ফিরোজ মুন্সির উপস্থিতিতে জামাল ও স্বপন তার কাছে চাঁদা চান। চাঁদা না দেওয়ার জেরে গাঁজা সেবনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তার ভাগিনা সোলাইমান শাকিল, নাতি নিবিড় ইসলাম, জয় ও দ্বীপকে পাশের একটি বাড়িতে তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। নিরুপায় হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও সোলাইমান শাকিল ও তার ছেলে নিবিড় ইসলাম এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিবিড় এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে এখন এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কিনা তা নিয়েও এক ধরণের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সোহরাব হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘বিএনপি করে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। অথচ এখন দলের লোকজনই আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছে। আমার ছেলের আনন্দের অনুষ্ঠান নষ্ট করে দিয়েছে। এ ঘটনার বিচারের জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে অনেক নেতার কাছে গিয়েছি। কিন্তু বিচার পাইনি।’ তিনি পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

অভিযুক্ত উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহব্বায়ক ফিরোজ মুন্সি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ‘আমি ওখানে কখনোই ছিলাম না। আমি একজন শিক্ষক মানুষ, পাশাপাশি আমি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। সোলাইমান শাকিল, জনি ও বন বিভাগের দুইজন লোক ছিল তারা গাঁজা খেয়েছে। একারণে পোলাপান তাদের এ্যাটাক করেছে। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য রাত সাড়ে ১২টায় আমি ওখানে গিয়েছি।’ তিনি আরও জানান, ‘গত ১১ তারিখের ঘটনা, তিনি ১৮ তারিখ সংবাদ সম্মেলন করে বলে আমি নাকি চাঁদা চেয়েছি। এরআগে তিনি বলেছেন তার কাছে নাকি জামাল চাঁদা চেয়েছে। সে একটা কথা বললেইতো হবে না। আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। আমি এবিষয়ে সম্পৃক্ত না। আমার লাইফে চাঁদাবাজি-ধান্দাবাজির কোন রেকর্ড নেই।’

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নীলফামারী ডোমারে প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে পুলিশ সদস্য আটক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন