একদম ছোটবেলা থেকে যেরকম সাজিয়ে নিজেকে পরিপাটি করে হাই হিল পরে এই রাম্প শোয়ের উপরে আগ্রহ ছিল, ঠিক তেমনই নাচটায় ভীষণ ভীষণ মানে ভীষণ আগ্রহ ছিল নাচটার উপরে। সময়ের সুযোগ হয় নি বা সব কিছু একসাথে মিলেনি বলে করা হয়নি।যখন একেবারে ছোটবেলায় নাচ শিখতে গেলাম, পরিবার থেকে বললো যে, আচ্ছা নাচটা শিখবে? ঠিক আছে আমাদের ফুল সাপোর্ট আছে, কিন্তু এখন আপাতত তুমি পেইন্টিংটা শিখো, ড্রয়িংটা শিখো। এভাবেই বললেন মডেল সাবরিনা জামান রিবা। তার এমন আক্ষেপ হয়তো কিছুদিন বিরত রাখতে পেরেছে। সে কিন্তু ফ্যাশন দুনিয়ার পাশাপাশি নৃত্যটাকেও ঝালাই করে নিতে ভোলেননি।
বাংলাদেশের ফ্যাশন দুনিয়ায় অতি পরিচিত একটি নাম সাবরিনা জামান রিবা। তাকে সবাই চেনেন মডেল হিসেবে। এছাড়া অভিনয়, উপস্থাপনা থেকে শুরু করে ভিন্ন মাধ্যমে কাজের নিয়মিত প্রস্তাব পেলেও মডেলিং ভালোবেসে এগিয়ে গেছেন বছরের পর বছর।
রিবা বলেন, আমি একদম ছোটবেলা থেকে ড্রয়িংটা শুরু করি এবং মনে হয় আস্তে আস্তে আমি অয়েল পেইন্টিং, স্কেচ করা তারপরে আরও যা যা আর্টের বিষয় আছে ওগুলো শিখি। ওই সময় আমার টিচার ছিলেন ইমন স্যার। ইমন স্যার এখন অনেক বড় একজন থিয়েটার আর্টিস্ট। তখন থেকেই উনি থিয়েটার করতেন এখন তো উনি নিজেই ভীষণ ভালো অ্যাক্টিং করেন। তো যাই হোক, পরিবারের ফুল সাপোর্ট ছিল। যদিও কনজারভেটিভ ফ্যামিলিতে একসাথে এতগুলো জিনিস করার তো একটু ডিফিকাল্ট । তবে না এটা বলব যে আমার পুরো পরিবার আমাকে শুরু থেকে অনেক বেশি সাপোর্ট দিয়েছে । না হলে আমি আজকে রিবা কখনোই হতে পারতাম না। স্পেশালি হচ্ছে আমার মা এবং আমার নানি। তারা কেউই এখনো এই পৃথিবীতে বেচে নেই কিন্তু তার পরও তাদের দোয়া আশীর্বাদ তাদের সাপোর্টে এই আজকে আমি রিবা হতে পেরেছি ।

এবার একটু ভিন্ন লুকে দেখা দিলেন রিবা। প্রস্তাবটি ছিল তার ছোটবেলার প্রিয় বিষয় নাচের। ছোটবেলায় নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। সেই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন নাচের ক্লাসে ভর্তিও হয়েছিলেন। যদিও মায়ের আগ্রহে সেসময় পেইন্টিং এবং পড়ালেখায় মনোযোগী হতে হয়েছিল তাকে।
শোতে হাঁটার প্রয়োজনেই মাঝে মধ্যেই অল্প বিস্তরে নাচতে হয়েছে রিবাকে। কিন্তু সেটা ছিল খুবই অল্প বিস্তর। এবার নৃত্যশিল্পী হিসেবে পারফর্ম করার প্রস্তাব পাওয়ামাত্রই লুফে নিলেন জনপ্রিয় এই তারকা। নৃত্যশিল্পী হিসেবে পারফর্ম করে প্রশংসাও কুড়িয়েছেন সবার থেকে। তাই তো রিবা এখন নাচ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
নৃত্যশিল্পী হিসেবে এখন থেকে কিছু করার আগ্রহ তার প্রবল। র্যাম্প মডেলিংয়ের পাশাপাশি সুযোগ পেলে নাচেও নিয়মিত কাজ করতে চান এই মডেল। গত ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তিতে বিকেল ৫টায় যাত্রাবিরতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ক্যারিয়ারে প্রথমবার পূর্ণাঙ্গভাবে নাচে পারফর্ম করেন রিবা।
এমন একটি অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে রিবা বলেন, “আমার ক্যারিয়ারের শুরু ২০১০ সালে। তখন থেকেই আমার বন্ধু মারিয়া ফারিহ্ উপমা। ওর হাত ধরেই সেসময় একটা নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। রতন স্যার কোরিওগ্রাফি করেছিলেন। তখন উপমা ও আসাদ সহকারী হিসেবে কাজ করেছিল। এ বছর থেকেই উপমা নাচের একটি প্রতিষ্ঠান করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটার নাম ‘উপমায়া ড্যান্স একাডেমি’। এটার প্রথম সিজন শেষে দ্বিতীয় সিজনে আমি ওখানে জয়েন করি। বিগত তিন মাস ১২টি ক্লাস শেষ করেছি, যা ছিল মাত্র ১২ ঘণ্টার। এই ১২ ঘণ্টায় ক্লাস করে নাচের ওপর বেসিক যে জ্ঞান নিয়েছি সেটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এরপর উপমা একটি শো করার কথা আমাদের বললেন। এটা শুনে আমি অনেক আগ্রহ প্রকাশ করি।’
তার কথায়, ‘আমার মনে হয়েছে এটা আমার জন্য অনেক সুন্দর সুযোগ। আমরা যেখানে নিয়মিত ক্লাস করতাম সেখানেই অনুষ্ঠানটি হয়। রিহার্সেলও মাত্র দুই-তিন দিনের ছিল। এত কম সময়ে আমরা ভীষণ সুন্দর একটি কোরিওগ্রাফি উপমার কাছ থেকে পাই। আমাদের দেশীয় লোকজ সংস্কৃতি, চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখের আমেজে ভরত নাট্যম, ক্লাসিক্যাল এবং ফোকের কম্বিনেশনে খুব সুন্দর একটি পারফর্ম করি।”


