প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত জিমের সুইমিংপুলে জ্ঞান হারালেন ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসার পরও বাঁচানো গেল না তাকে।
গত রোববার (১১ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদপত্র লে মণ্ড।
তার পরিবার জানিয়েছে, প্যারিসের একটি সুইমিং পুলে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার এক সপ্তাহ পর নাদিয়া ফারেসের মৃত্যু হয়। এই ফরাসি অভিনেত্রীর বয়স ছিল ৫৭ বছর।
ফারেসের মেয়েরা সিলিয়া ও শানা চাসম্যান (১৭ এপ্রিল) শুক্রবার ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি কে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এএফপি কে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে তার মেয়েরা বলেন, গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা জানাচ্ছি যে এই শুক্রবার নাদিয়া ফারেস মারা গেছেন। ফ্রান্স একজন মহান শিল্পীকে হারিয়েছে।
লে মণ্ড জানিয়েছে, (১১ এপ্রিল) রোববার প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত জিমের সুইমিং পুল থেকে ফারেসকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং কোমায় চলে যান। পরে শুক্রবার শহরের পিতিয়ে সালপেত্রিয়ের হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে লে মণ্ডকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ২০০৭ সালে ফারেস জানিয়েছিলেন যে তার মস্তিষ্কে অ্যানিউরিজম ধরা পড়ায় তিনি অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। তিনি তখন তার শারীরিক অবস্থাকে একটি টাইম বোমা, যেটিকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়াও তিনি তিনবার হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন।
১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্ম নেওয়া নাদিয়া শৈশব কাটান ফ্রান্সের নিস শহরে। এরপর অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমান প্যারিসে।
১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও ২০০০ সালে ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।
পরবর্তীতে তিনি হলিউডের বিভিন্ন চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন, যার মধ্যে ২০০৭ সালের স্টর্ম ওয়ার্নিং উল্লেখযোগ্য, পাশাপাশি অসংখ্য ফরাসি সিনেমায় তিনি কাজ করেছেন।
এ বিষয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ফারেসের মেয়ে সিলিয়া তার মায়ের মৃত্যু নিয়ে লিখেছেন, ‘এটি একটি হৃদয়ভাঙা ঘটনা, যেটি আমি কখনোই কাটিয়ে উঠতে পারব না। বিদায় বলতে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু মা, আমি তোমাকে নিয়ে গর্ববোধ করছি। তোমার জীবনের শেষ কয়েক মাসে আমরা আগের চেয়েও বেশি কাছাকাছি হয়েছিলাম। তুমি আমাকে সবার চেয়ে ভালো বুঝতে। আমি জানি না কীভাবে এই শোক কাটিয়ে উঠব।’
পোস্টে তিনি আরোও উল্লেখ করেন, ‘মানুষ সবসময় বলে আমি তোমার মতো, আর এটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রশংসা। তুমি অনেক ভালোবাসা পেয়েছ এবং তুমি ছিলে আমার আদর্শ। তুমি শুধু একজন অসাধারণ মা নও, তুমি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু ছিলে, আর আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’
পড়ুন : বিজয়ের শেষ সিনেমার এইচডি প্রিন্ট ফাঁস, জানা গেল মূল হোতার পরিচয়


