বিজ্ঞাপন

প্রবাসে ইউপি সদস্য, ভৈরবে সেবা বঞ্চিত ওয়ার্ডবাসী—ভাতা উত্তোলনেও প্রশ্ন

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি বিদেশে থাকলেও কীভাবে নিয়মিত সম্মানী ভাতা উত্তোলন হচ্ছে—তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল মিয়া নির্বাচনে জয়লাভের চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যেই সৌদি আরবে পাড়ি জমান। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এলাকায় অনুপস্থিত রয়েছেন।

ওয়ার্ডবাসীর দাবি, জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সাধারণ মানুষের কাজকর্মে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করলেও তার কোনো সেবা পাচ্ছি না। তিনি এলাকায় না থাকায় প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে গিয়ে বারবার সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”

আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, “ওয়ার্ডের রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। এখন স্থানীয় যুবক ও প্রবাসীরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে কিছু কাজ করার চেষ্টা করছেন।”

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য বিদেশে থাকলেও তার সম্মানী ভাতা নিয়মিত উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, দায়িত্ব পালন না করে ভাতা গ্রহণ অনৈতিক এবং এর যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত।

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি স্থায়ীভাবে প্রবাসে যাননি; উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছেন। তার স্ত্রী জানান, কয়েক মাস আগে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছ থেকে বেতন-ভাতা হিসেবে ২৬ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মস্তো মিয়া অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরই তিনি বিদেশে চলে যান এবং বছরে অল্প সময়ের জন্য এলাকায় আসেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট সদস্য বিদেশে চলে যান এবং বিষয়টি তখনকার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। বর্তমানে ওই ওয়ার্ডের দায়িত্ব সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পালন করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম. মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। এখন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট সদস্যের ভাতা বর্তমানে কে উত্তোলন করছেন সেটিও তদন্ত করা হবে।

জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও সেবা না পাওয়ায় নবীপুরসহ আশপাশের এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা—প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত তথ্য উঠে আসবে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন:মেহেরপুরে ভারতীয় মদ ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ১

দেখুন:ঝিনাইদহে চিনিকলের মাঠ থেকে যুবকের ম/র/দে/হ উদ্ধার | 

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন