বিজ্ঞাপন

গুপ্তরা আবারও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ষড়যন্ত্র করছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গুপ্তরা আবারও বিভ্রান্ত করছে। ব্যক্তিগত ঘটনা রাজনৈতিক রূপ দিয়ে তারা বিভ্রান্ত করছে। তারা ৭১, ৮৬, ৯৬, ১/১১ এর সময় জাতিকে বিভ্রান্ত করেছে। এদের বিষয় সর্তক থাকতে হবে। জনগণের স্বার্থে যেই কাজ তারা সেটা রেখে দেয়, কীভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পারবে তা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর বগুড়ায় এটিই তারেক রহমানের প্রথম জনসভা। তারেক রহমানের পৈতৃক ভিটা বগুড়ায় আগমন উপলক্ষ্যে এই জনসভার আয়োজন। এই জনসভায় বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দরের কাজ শুরুর করার প্রতিশ্রুতি দেন সরকারপ্রধান।

ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ ও সর্তক থাকতে হবে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে আরও বলেন, তারা এ দেশে স্বাধীনতা ও অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, তাদের বিশ্বাস করা যায় না। ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যারা সংস্কার সংস্কার বলে জাতিকে বিভ্রান্তি করতে চাচ্ছে, তারা নারীদের নিয়ে কোনো কথা বলে না, কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে তা বলে না। তারা শুধু সংবিধান সংবিধান সংস্কার বলে বিভ্রান্ত করছে। বিএনপি সরকার কোনো বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে পা দেবে না। বিএনপিকে মানুষ ভোট দিয়ে ম্যান্ডেট দিয়েছে। জুলাই সনদসহ মানুষকে যেই প্রতিশ্রুতি বিএনপি দিয়েছে, তাই বাস্তবায়ন করবে।

সরকারপ্রধান বলেছেন, বিএনপি যখন সংস্কারের জন্য ৩১ দফা ঘোষণা করেছিল, তখন অন্য কোনো রাজনৈতিক দল স্বৈরাচারের ভয়ে সংস্কার উচ্চারণ করেনি। বিএনপি স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল। ঐক্যমত কমিশনে আলোচনা করে বিএনপি জানিয়েছে, কোনটায় বিএনপি একমত, কোনটা করবে না। সেভাবেই বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি যেই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, তা অক্ষরে অক্ষরে সরকার বাস্তবায়ন করবে। তবুও কিছু রাজনৈতিক দল সংসদ ও সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে নানা কথাবার্তা বলছে।

যারা দেশে গোলযোগ করার পায়তারা করার চেষ্টা করছে, তাদের মাথায় স্বৈরাচারের ভূত চেপেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, উন্নয়নের নাম করে মেগা দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছিল স্বৈরাচার সরকার। কিছু মেগাপ্রকল্পের নামে দুর্নীতি ছাড়া তারা কিছু করেনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আজ বগুড়ার গাবতলীতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের মায়েদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের পরপরই আমরা সেই কাজ শুরু করেছি। শুধু তাই নয়, আমরা বলেছিলাম কৃষকদের পাশেও দাঁড়াব। যেমন মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, তেমনি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। সেই কাজও আমরা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আমরা আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ আছে, সেই ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই আমরা সেই কাজ সম্পন্ন করেছি। এর ফলে সারা দেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ হয়েছে। আমরা আরও বলেছিলাম- মসজিদ, এতিমখানা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানজনক ভাতা নিশ্চিত করা হবে। আপনাদের দোয়ায় আমরা সেই কাজও বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করব। কারণ, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে বর্ষায় বন্যা হয়, মানুষ কষ্ট পায়, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল নষ্ট হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানে আমরা আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি এবং সেই কাজ শুরু করেছি। বিএনপি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি কাজ বাস্তবায়ন করছি। এই কাজগুলো দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ-এসব বাস্তবায়ন হলে দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

পড়ুন : পাচারের টাকা দেশে এনে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে ব্যবহার করা হবে: প্রধানমন্ত্রী


বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন