ঝিনাইদহ-৪ আসনে (কালীগঞ্জ) বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার সকালে শহরের নলডাঙ্গা রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির এক পক্ষের নেতাকর্মীরা এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলন থেকে ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করা সাইফুল ইসলাম ফিরোজসহ ৮৪ জনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি করা হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ডা. নুরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কালীগঞ্জ বিএনপি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা এই আসনটি পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী ছিলাম। আমাদের প্রত্যাশা ছিল—দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও আদর্শচ্যুত হইনি বা অন্য কোনো দলে যোগ দেইনি। আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি এখনো অবিচল। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দলীয় প্রার্থীর চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রায় ২২ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন। এতেই প্রমাণিত হয় যে, প্রার্থীর বিষয়ে আমাদের তৃণমূলের পর্যবেক্ষণ সঠিক ছিল। শুধুমাত্র সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতা ও তৃণমূলের মতামতের প্রতিফলন না ঘটায় আমরা বিএনপির এই ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত আসনটি হারিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, জোটগত রাজনীতির সমীকরণে এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, যিনি এই এলাকার ভোটার বা বাসিন্দা নন। ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়। সেই আবেগ ও দাবির মুখে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মূলত এলাকার নেতাকর্মী ও ভোটারদের সেন্টিমেন্টকে সম্মান জানাতেই আমরা তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম।
বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এখন সামনের দিকে তাকাতে চাই। হারিয়ে যাওয়া এই আসনটি পুনরুদ্ধার এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও তৃণমূলের কাছে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমরা বিশ্বাস করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকল ভেদাভেদ ভুলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে সক্ষম হব। একটি উন্নত, মানবিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কালীগঞ্জ বিএনপি আগামীতেও রাজপথে সক্রিয় থাকবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম সাইদুল, ইলিয়াস রহমান মিঠু, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোশাররফ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জাবেদ আলীসহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, কৃষকদলের নেতাকর্মীরা।
পড়ুন : নোয়াখালীতে মাশরুম চাষে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, বাজার সংকটে হতাশ চাষী


