বিজ্ঞাপন

৫৫ রানে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ২৬৬ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে ঘরের মাঠের এই ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। ফলে শেষ ম্যাচটি হয়ে উঠে সিরিজ নির্ধারণী। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ব্যাটে ভর করে আড়াইশ ছাড়ানো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ব্যাটারদের পর কিউইদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন বোলাররাও। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমান। এই বাঁহাতি পেসারের ফাইফারে কোনোরকমে দুইশ ছুঁয়ে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ৫৫ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। 

চট্টগ্রামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করে নাজমুল হোসেন শান্ত। জবাবে ৪৪ ওভার ৫ বলে ২১০ রান করে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। টাইগারদের হয়ে ৩০ রানে ৫ উইকেট শিকার করে সেরা বোলার মুস্তাফিজ।

২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। নতুন বলে বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে কিউই শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন এই বাঁহাতি পেসার। দ্বিতীয় বলে মুস্তাফিজের বাউন্স সামলাতে পারেননি হেনরি নিকোলস, টপ এজ হয়ে বল জমা পড়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে। ৪ রান করে নিকোলস ফেরায় ভাঙে ৮ রানের উদ্বোধনী জুটি।

আরেক ওপেনার উইল ইয়াং উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। নাহিদ রানার করা অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বলে খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ইয়াং। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৫ বলে ১৯ রান।

৫৪ রানে ২ উইকেটে হারানোর পর বড় দায়িত্ব ছিল টম ল্যাথামের কাঁধে। কিন্তু উল্টো দলের বিপদ বাড়িয়েছেন অধিনায়ক। ইনিংসের ১৭তম ওভারের পঞ্চম বলটি মিডল স্টাম্পের ওপর করেছিলেন মিরাজ, সেখানে সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে বল চলে যায় শর্ট ফাইন লেগে দাঁড়িয়ে থাকা শরিফুলের হাতে। ১৩ বলে ৫ রান করেছেন ল্যাথাম।

৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দল যখন বিপদে তখন হাল ধরেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। বিশেষ করে ক্যালি দারুণ ব্যাটিং করছেন। ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নিয়েছেন তিনি। এই মাইলফলক ছুঁতে খেলেছেন ৬৮ বল। তবে ফিফটির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫৯ রান করে মুস্তাফিজের বলে আউট হয়েছেন তিনি। তাতে ভাঙে ৪৭ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি।

ভালো শুরু করা আব্বাসকে বোল্ড করেন শরিফুল। ৩৬ বলে ২৫ রান করেছেন তিনি। তাতে ১২৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই দূরে সরে যায় কিউইরা। এরপর ডিন ফক্সকর্ফট ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতেই পারেননি। তার ৭৫ রানের ইনিংস কেবলই হারের ব্যবধান কমিয়েছে।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শুরুতেই সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। উইলিয়াম ও’উরকের বলে কট বিহাইন্ড হন তিনি। আউট হওয়ার আগে রানের খাতাই খুলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার।

ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি আগের ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম। ৫ বলে ১ রান করেন তিনি। ৯ রানে ২ উইকেট হারানো দলের হাল ধরান চেষ্টা চালান নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার। কিন্তু এই জুটিটাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। ২৬ বলে ১৮ রান করে আউট হন সৌম্য।

চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। শুরুতে দেখে-শুনে ব্যাট করতে থাকলেও ক্রমেই কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন তারা। তাতেই বাড়তে থাকে বাংলাদেশের ইনিংস। জুটিতে দুজন মিলে তোলেন ১৬০ রান। তাতেই ভালো সংগ্রহের ভিত পেয়েছে টাইগাররা। ফিফটি পূরণের পর ৭৬ রানে থামেন লিটন।

এ দিকে ফিফটির পূরণের পর সেঞ্চুরিও তুলে নেন শান্ত। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতরানের ইনিংস। শান্তর ইনিংস থামে ১০৫ রানে। ১১৯ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ৯টি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো।

এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ২২, শরিফুল ইসলাম ১, তানভীর ইসলাম শূন্য রানে আউট হন। এ ছাড়া ৩৩ রানে তাওহীদ হৃদয় ও ৩ রানে মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত থাকেন।

পড়ুন : নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ৬ উইকেটে জিতে সিরিজে সমতা আনল বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন