টানা বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জনজীবন। দিনে-রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা পড়ছেন চরম কষ্টে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যুতের অভাবে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আমন ও বোরো মৌসুমের ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকলে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, এতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
এছাড়া, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। ফ্রিজ, মেশিন বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নির্ভর ব্যবসা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় আয় কমে গেছে, অথচ খরচ কমছে না।
শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন বিপাকে। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই বিকল্প হিসেবে মোমবাতি বা চার্জলাইট ব্যবহার করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়।
এ বিষয়ে মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ এর সহকারী জেনারেল ম্যানেজার পলাশ ভৌমিক জানিয়েছেন,জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যেখানে আমাদের মির্জাপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাহিদা ৬০ মেগাওয়াট সেখানে আমরা পাচ্ছি ২৪ মেগাওয়াট বাকি ৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লোডশেড চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা সঠিক ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছি না। তবে দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে বলেও আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের দাবি, নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
পড়ুন : অসংক্রামক রোগে মৃত্যু ৭১ শতাংশ, কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি


