বিজ্ঞাপন

৪৮ ঘণ্টায় বরগুনায় ৬ মরদেহ উদ্ধার, জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য

মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে বরগুনার বিভিন্ন উপজেলায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার এবং একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছেন দুই গৃহবধূ, এক বৃদ্ধা, গণপিটুনিতে নিহত এক ব্যক্তি, এক অটোরিকশাচালক এবং এক পুলিশ কনস্টেবল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া এলাকায় নিজ ঘর থেকে মোসা. কনা (৩৪) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকায় সালেহা বেগম (৯৩) নামে এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উভয় ঘটনায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সদর উপজেলার একটি এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে গণপিটুনিতে নিহত হন কথিত কালু বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন ওরফে কালু (৩০)। স্থানীয় ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগের পর ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয় বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে শনিবার ভোরে মিজানুর রহমান (৪৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছে তালতলী থানায়। সেখানে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ফারুক গাজী (৫৫) বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাতে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আত্মহত্যার আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে গেছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে বামনা উপজেলায়ও একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটির তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মরদেহের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই খুদা বলেন, পারিবারিক অবক্ষয়, সামাজিক মূল্যবোধের অবনতি এবং মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের কারণে আত্মহত্যা ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
স্বল্প সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক আত্মহত্যা, গণপিটুনি ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ‎‎‎জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে বৃদ্ধকে পুশইনের চেষ্টা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন