নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ মাটির সড়ক দখল করে অবৈধভাবে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সড়কের ওপর আরসিসি পিলার ও ইটের গাঁথুনি তুলে নির্মাণকাজ চলায় এলাকার হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত নির্মাণকাজ বন্ধ করে রাস্তাটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার গামরুলী হরিপুর বাজার থেকে পুরানবাড়ী হয়ে কেরাধিঘী পর্যন্ত সংযোগ সড়কে এ ঘটনা।
সরেজমিনে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গামরুলী ও এর আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা মাটির এই সড়কটি। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এই পথ ধরে যাতায়াত করেন। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার জন্যও রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় মো. বকুল মিয়া নামের এক ব্যক্তি ওই সড়কের একাংশ দখল করে বসতঘর নির্মাণ শুরু করেছেন।
আরও জানা যায়, সরু মাটির রাস্তার একেবারে গা ঘেঁষে ইটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে এবং আরসিসি পিলারের জন্য লোহার রড দাঁড়িয়ে আছে। নির্মাণসামগ্রী ও পিলারের কারণে সড়কের প্রশস্ততা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ভ্যান বা রিকশার মতো ছোট যানবাহন চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা দখল করে কাজ শুরুর পরপরই গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে বকুল মিয়াকে বাধা প্রদান করেন। তিনি স্থানীয়দের কোনো কথারই তোয়াক্কা করছেন না। উল্টো প্রভাবশালী মহলের ভয় দেখিয়ে তিনি জোরপূর্বক তার নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দিনের পর দিন এই অবস্থা চলতে থাকায় গ্রামবাসীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য কাজল মিয়া অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে বকুল মিয়াকে রাস্তার ওপর ঘর নির্মাণ না করার জন্য নিষেধ করেছি। তিনি আমার কথাও মানছেন না এবং নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি আমি এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) মৌখিকভাবে অবগত করেছি।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মো. বকুল মিয়া সড়ক দখলের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “যাকে আপনারা রাস্তা বলছেন, সেটি আসলে আমার নিজস্ব ও রেকর্ডের জমির ওপর দিয়ে করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। প্রশাসন যদি জমি মেপে প্রমাণ করতে পারে, আমি ভুল জায়গায় বা সরকারি জায়গায় স্থাপনা করছি, তাহলে আমি নিজ দায়িত্বে তা সরিয়ে নেব।”
বকুল মিয়ার এমন অনড় অবস্থান এবং রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়ায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিকভাবে এর সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দ্বন্দ্ব বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তাই জনভোগান্তি লাঘবে অবিলম্বে তদন্তপূর্বক অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের জরুরি ও পদক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
পড়ুন- ঢাকা জেলায় যুক্ত হচ্ছে এবার পুরো পূর্বাচল শহর
দেখুন- প্রকাশ্যে এলো ইরানের নেপথ্য শক্তি, ঘোষণা দিয়েও আ/ক্র/মণে ট্রাম্পের ভয়?


