অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করতে নওগাঁ জেলায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিয়ে দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডি) কর্মসূচির উদ্যোগে এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম কর্মশালার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ প্রোগ্রামের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ডা. শামীম জুবায়ের, ডিভিশনাল প্রোগ্রাম অফিসার খোন্দকার এহসানুল আমিন ইমন এবং সার্ভিলেন্স মেডিকেল অফিসার ডা. রাজত চৌধুরী সায়েমসহ সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সিভিল সার্জন বলেন, হৃদরোগজনিত মৃত্যুহার এক-চতুর্থাংশ কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, উচ্চ রক্তচাপের ব্যাপকতা ১৮ শতাংশে সীমিত করা এবং লবণ গ্রহণ ২৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে রাজশাহী বিভাগের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা, পরামর্শ ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, নওগাঁ জেলার ১০টি এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত রোগী নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন এবং এ সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এনসিডি কর্নারগুলোতে আধুনিক ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে রক্তচাপ পরিমাপ করা হচ্ছে এবং ‘সিম্পল অ্যাপস’-এর মাধ্যমে রোগীদের তথ্য সংরক্ষণ ও মনিটরিং করা হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৪ কোটি মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যান, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৪ শতাংশ। এর মধ্যে হৃদরোগেই ঘটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যু। ধূমপান, তামাক ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং বায়ুদূষণসহ বিভিন্ন কারণ এ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তারা বলেন, জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এনসিডি প্রতিরোধ সম্ভব। এ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারায় অভ্যস্ত করতে সচেতনতা ও পরামর্শ প্রদান করা হবে।
কর্মশালায় ৪৮তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত জেলার সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসাররা অংশগ্রহণ করেন।
একনেকে ১৭ প্রকল্পের মধ্যে অনুমোদন পেয়েছে ১৫টি: প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি


