কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব)। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পার হতেই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে বড় সাফল্যের দাবি করেছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার কর্মকর্তা কুমিল্লা কাস্টমসের বিবির বাজার স্থল বন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে থাকতেন রাজাগঞ্জ পানপট্টি এলাকার ভুইয়া হেরিটেজ নামে ভাড়া বাসায়। গত শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি রোড এলাকার একটি হোটেলের সামনের ফুটপাত থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম থেকে ফিরে কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ এলাকায় এসে শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন বুলেট। এরপরই তার মোবাইল ফোনটি দুর্বৃত্তদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার মোবাইলের লোকেশন সদর দক্ষিণের চৌয়ারা এলাকায় দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, টাকা-পয়সা, ক্যামেরা ও মূল্যবান মালামাল লুট করার পর তাকে হত্যা করে মহাসড়কের পাশে ফেলে যায় ছিনতাইকারীরা।
র্যাব-১১, কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম রোববার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যার রহস্য বের করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সোমবার সকালে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে মামলার ছায়া তদন্তে র্যাবের পাশাপাশি ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই কাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নিহত বুলেট বৈরাগীর বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। দেড় বছর আগে চাকরিতে যোগ দেওয়া এই মেধাবী কর্মকর্তার মৃত্যুতে তার পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

