যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরান গোপনে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে তৎপরতা বাড়িয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। খবরে বলা হয়েছে, বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে জোর দিচ্ছে ইরান ।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য যুদ্ধসরঞ্জাম উদ্ধার করতে ইরানের সরকার ব্যাপক খনন কার্যক্রম শুরু করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা ও আরও দুই সূত্র জানিয়েছেন, তেহরান দ্রুত তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেন, সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানার মতো প্রস্তুতি রাখতেই ইরান এই উদ্যোগ নিচ্ছে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি থাকলেও ভবিষ্যৎ সংঘাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রও সতর্ক প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোতে নতুন করে জ্বালানি, খাদ্য, গোলাবারুদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক-এর ওপর এসব সরঞ্জাম তোলা হচ্ছে। এটা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সহায়তা করছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। যদিও কিছু বিশ্লেষকের মতে, প্রকৃত ব্যয় এ অঙ্কের চেয়েও বেশি হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষের প্রস্তুতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
পড়ুন:পেট্রোলের দাম ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে আরব আমিরাত
দেখুন:‘ঋণ খেলাপি’ নিয়ে সংসদে যা বললেন অর্থমন্ত্রী
ইমি/


