আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণ। তেলের দাম বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে, যার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে-এমন পূর্বাভাসেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, আজ শুক্রবার (০১ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪,৫৭৩.৩৩ ডলারে। সাপ্তাহিক হিসেবে যা প্রায় ২.৮ শতাংশ পতন। অন্যদিকে, জুন মাসে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ১ শতাংশ কমে ৪,৫৮৫.২০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তেলের দামের সঙ্গে স্বর্ণের দামের একটি বিপরীতমুখী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ইউবিএস অ্যানালিস্ট জিওভানি স্টাউনোভো জানান, তেলের চড়া দাম সুদের হারের পূর্বাভাসকে প্রভাবিত করছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বছরের শুরুর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক মন্দা ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভসহ ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও বর্তমানে সুদের হার স্থিতিশীল রাখার পথে হাঁটছে। সাধারণত সুদের হার উচ্চ থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে ট্রেজারি বন্ডের মতো মুনাফাযোগ্য খাতের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন, যা স্বর্ণের বাজারে মন্দা তৈরি করে।
তবে এই মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মনে করছে ইউবিএস। স্টাউনোভোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসের মধ্যে স্বর্ণের বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলারের সম্ভাব্য দুর্বল অবস্থান এবং ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাতে শুরু করলে স্বর্ণের চাহিদা পুনরায় বৃদ্ধি পাবে। সংস্থাটির মতে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫,৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

