এসএসসি পরীক্ষায় হঠাৎ করে ক্যালকুলেটর ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক ট্যাগ কর্মকর্তার খামখেয়ালি ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ৬৬০ জন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
রবিবার (৩ মে ২০২৬) কেন্দুয়া জয়হরি উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে গণিত পরীক্ষা চলাকালে নজিরবিহীন এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
স্থানীয় ও কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, রবিবার পূর্বনির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী এসএসসি’র গুরুত্বপূর্ণ গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সকাল ১০টায় শান্তিপূর্ণভাবেই পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ২৩ মিনিট পর কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বরুন কুমার রায় হঠাৎ করেই পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। গণিতের মতো বিষয়ে হঠাৎ ক্যালকুলেটর ব্যবহারে এমন নিষেধাজ্ঞায় পরীক্ষার্থীদের মাঝে চরম বিভ্রান্তি, ভীতি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ক্যালকুলেটর ছাড়া গণিত প্রশ্নের সমাধান করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষে ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুতই তা ক্ষোভ বিক্ষোভে রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা পরীক্ষা কেন্দ্রের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তুমুল প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে কেন্দ্রের ভেতরেই অবস্থান নেন এবং কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কেন্দ্র সচিব ফরিদা আক্তার চরম হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, “দায়িত্বরত ট্যাগ কর্মকর্তা সম্পূর্ণ ভুলবশত পরীক্ষা শুরুর ২৩ মিনিট পর ক্যালকুলেটর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বললে তিনি নিশ্চিত করেন, গণিত পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “ইউএনও’র নির্দেশনার পর পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৪ মিনিট আগে শিক্ষার্থীদের ক্যালকুলেটর ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বহু শিক্ষার্থী তাদের প্রশ্নের সম্পূর্ণ সমাধান করতে পারেনি। এটি পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক একটি ঘটনা।”
পরীক্ষা কেন্দ্রে উত্তেজনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তারা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং কারও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এসএসসি’র মতো একটি পাবলিক পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬০ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবক মহলে এখন তাদের সন্তানদের ফলাফল নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পড়ুন : নেত্রকোনায় নৌকা থেকে চোরাই গরু নামানোর সময় জনতার হাতে আটক ৩


