বিজ্ঞাপন

মোদির বিজেপি নাকি মমতার তৃণমূল, পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছেটা কী?

ভারতে পশ্চিমবঙ্গে বেশ কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ভোট গণণা ও ফলাফলের অপেক্ষা। সোমবার (৪ মে) ভোট গণণা শুরু হবে। কিন্তু ভারতীয় বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের কাছে অন্যান্য রাজ্যগুলোর তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ পাচ্ছে বেশি। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাত পোহালেই পর্দা উঠবে এই মেগা-থ্রিলারের চূড়ান্ত অধ্যায়ের। এতে শেষ হাসি হাসবেন কে?

সোমবার সকাল ৮টা থেকেই শুরু হবে ভোট গণনা। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং এরপর খোলা হবে ইভিএমের সিন্দুক। এবার নির্বাচন কমিশন গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে ৭৭টিতে নামিয়ে এনেছে।

ভোট তো শেষ, কিন্তু শুরু হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধ। গত চার দিন ধরে স্ট্রং রুমের বাইরে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তৃণমূল ও বিজেপির নেতা-কর্মীরা। পাহারায় আছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন—একটি ভোটও যেন চুরি না হয়। গণনাকেন্দ্রের গণ্ডির বাইরে পাঁচ হাজার কর্মীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপিও ছেড়ে কথা বলছে না। তাদের বিশ্বাস, এবার পরিবর্তনের হাওয়া প্রবল।

অবাক করা বিষয় হলো, এই নির্বাচনের নজর শুধু পশ্চিমবঙ্গের দিকে নিবদ্ধ নেই। সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছেও এটি এখন আলোচনার প্রধান বিষয়। এপার বাংলার চোখও এখন ওপার বাংলার দিকে।

অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া বা সি ভোটারের মতো পরিচিত কোনো সংস্থাই এবার নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কে জিতছে। বিজেপি কি এবার সত্যিই অসাধ্য সাধন করবে? নাকি ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ তত্ত্বে দিদিরই জয় হবে?

সমীকরণে অনেকগুলো যদি-কিন্তু কাজ করছে। হিন্দু মধ্যবিত্ত বাঙালির একটি অংশ পরিবর্তনের পক্ষে মোদির হাত ধরলেও এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটার এবং নারীরা কি এখনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অটুট ঢাল হয়ে আছেন? ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া নাকি দিদির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা—কোনটি শেষ পর্যন্ত বাজি মারবে, তা নিয়ে খোদ সমীক্ষকরাও দ্বিধাবিভক্ত।

বিজেপি এবার কোমর বেঁধে নেমেছে। ভোট দেওয়ার পদ্ধতিতে কারচুপির আশঙ্কা কম থাকায় তারা অনেকটা নির্ভার। কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মন্দিরে মন্দিরে প্রার্থনা করতে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে গণনাকেন্দ্রের প্রতিটি ইঞ্চি পাহারা দিচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে যেকোনো অনিয়ম সামাল দিতে। একপক্ষ বলছে ‘পরিবর্তন’, অন্যপক্ষ বলছে ‘নিজেদের মেয়েকেই চায়’। এই দুই বিপরীতমুখী স্লোগানের ফলাফল সোমবার দুপুরের মধ্যেই সবার সামনে আসবে।

পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন কেবল একটি জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, এটি ভারতীয় রাজনীতির মেরুকরণের এক অগ্নিপরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় কে উত্তীর্ণ হচ্ছেন আর কার ভাগ্যে জুটছে পরাজয়—তা জানতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত। ততক্ষণ এই টান টান উত্তেজনা আর দোলাচলেই কাটছে বঙ্গবাসীর সময়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাংলাদেশ দূতাবাস, দোহায় মে দিবসে তাপপ্রবাহ সচেতনতা সেমিনার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন