বিজ্ঞাপন

কালিকাপ্রসাদের মেলা মানেই জুয়ার আসর, কঠোর অবস্থানে উপজেলা প্রশাসন

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নে বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে জুয়া, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী মেলার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে আসছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈশাখ মাসজুড়ে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রতি রোববার বসে ঐতিহ্যবাহী মেলা। একসময় এসব মেলা ছিল গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ। তবে সময়ের সঙ্গে মেলার পরিবেশ বদলে গিয়ে সেখানে জুয়ার আসর, মাদক বেচাকেনা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ বাড়তে থাকে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমার চাই কালিকাপ্রসাদে যেন মেলার আড়ালে জুয়া না হয়।”

আরেকজন বলেন, “যেহেতু প্রশাসন এই জুয়া বন্ধ করতে পারছে না, তাই কালিকাপ্রসাদের মেলাই বন্ধ করে দেওয়া দরকার।”

অন্য এক বাসিন্দার ভাষ্য, “এই মেলায় শুধু জুয়া নয়, জুয়ার কারণে মারামারি, হানাহানি ও মাদকের ব্যবসাও হয়। আমরা চাই জুয়া পুরোপুরি বন্ধ হোক।”

এ বিষয়ে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া বলেন, “গ্রামগঞ্জের বৈশাখী মেলা আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি মেলার সুযোগ নিয়ে জুয়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। আমরা চাই মেলা সুস্থ বিনোদনের জায়গা হোক। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে, যেন কোনো মেলায় জুয়া বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে।”

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া ভৈরবে কোনো ধরনের মেলা আয়োজন করা যাবে না। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম মামুনুর রশীদ বলেন, “অনুমতি ছাড়া কোনো মেলা বসানো যাবে না। কোথাও জুয়া বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যের নামে যেন কোনোভাবেই অপরাধের বিস্তার না ঘটে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের মেলাগুলো আবারও পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ ফিরে পাবে— এমনটাই আশা সচেতন মহলের।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ভোলায় নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন