ভোলার লালমোহনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিকটাত্মীয় প্রতিপক্ষের হামলায় মাসুদ হাওলাদার (৫০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা মুহূর্তেই সংজ্ঞাতে রূপ নেয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধই মূল কারণ। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে লালমোহন থানা পুলিশ। আটকরা হলেন— আফসার, তানভির, ফিরোজ ও রেশমা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালমোহন পৌরসভার মাসুদ হাওলাদারদের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জমিজমা ও সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এর জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৬ মে) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মাসুদ হাওলাদার বাড়ির আঙিনায় থাকা একটি নারিকেল গাছ থেকে নারিকেল পাড়তে যান। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন এতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সংজ্ঞাতে রুপে নেয়। সংঘর্ষে মাসুদ হাওলাদারকে মারধর করা হলে তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন৷
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত প্রায় ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
মাসুদ হাওলাদারের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের স্ত্রী ও সন্তানদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল ইসলাম জানান, নিহত মাসুদ হাওলাদারের কন্যা মাসুমা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে। এ ঘটনায় অন্যান্য আসামীদেরকেও গ্রেফতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে৷
পড়ুন:মাদক ও গুজবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: নেত্রকোনার পুলিশ সুপার
দেখুন:বরগুনায় চিত্র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন |
ইমি/


