বিজ্ঞাপন

ভ্যাকসিনে অনীহা না কি মৌসুমি প্রভাব? কলমাকান্দায় বাড়ছে হাম ?

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় হঠাৎ করেই শিশু হাম রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েকদিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একের পর এক হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হতে থাকায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এটি অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ মে থেকে শুরু করে আজ (রবিবার) দুপুর পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন হাম আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে- সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১০ জন শিশু। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে চারজন শিশু। একজন শিশুকে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সোহারাব হোসাইন লিংকন জানান, “চলতি মাসের শুরু থেকেই হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। আজ দুপুর পর্যন্ত ১৪ জন ভর্তি হয়েছে। আমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমরা সাপোর্ট ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।”

সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতির অবনতির পেছনে বেশ কিছু কারণ বিদ্যমান। প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিগত সময়ে নিয়মিত হামের টিকাদান কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা এবং অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অনীহা সংক্রমণের পথ সুগম করেছে। গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতার ঘাটতি। বর্তমান আবহাওয়ার পরিবর্তন ও মৌসুমি সংক্রমণের কারণেও ভাইরাসের বিস্তার বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

হাম একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। চিকিৎসকরা অভিভাবকদের নিচের লক্ষণগুলোর দিকে নজর দিতে বলেছেন- তীব্র জ্বর ও শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ। চোখ লাল হওয়া ও অনবরত জল পড়া। কাশি, সর্দি ও শারীরিক দুর্বলতা।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, হামকে অবহেলা করলে পরবর্তীতে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা মস্তিষ্কের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা মাত্রই কবিরাজি বা ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও গণমাধ্যমকর্মী শেখ শামীম শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “গুজব কিংবা অসচেতনতার কারণে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা ঠিক নয়। সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা, ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা এবং অসুস্থ শিশুদের আলাদা রাখার মাধ্যমে আমরা এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারি।”

বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। তবে সংক্রমণের হার কমাতে হলে সম্মিলিত সামাজিক প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পড়ুন- বঙ্গোসাগরের ওপর সেই আলো ছিল ভারতীয় অত্যাধুনিক মিসাইল ‘অগ্নি-৫’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন