কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নেমতপুর ইউনিয়নের চারিতলা গ্রামে প্রায় দুই কিলোমিটার একটি কাঁচা রাস্তা এখন এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।লাল মিয়ার বাড়ি থেকে চারিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাস্তাটি বড় বড় গর্তে পরিণত হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলের একদম অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বড় হাওরের হাজার হাজার কৃষকের একমাত্র ভরসা এই রাস্তাটি। বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান ঘরে তোলার মোক্ষম সময় এখন। কিন্তু শনিবার (৯ মে) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধানবোঝাই গাড়িগুলো রাস্তার বড় বড় গর্তে আটকে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফলে হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল বাজারে নিতে বা বাড়ি পৌঁছাতে চরম বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা।
এসময় স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল আমিন বলেন দ্রুত এই ২ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করে কয়েক হাজার কৃষকের স্বপ্ন আর হাজারো মানুষের চলাচলের পথ সুগম করবে এমনটাই প্রত্যাশা করি।
স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে জানান, গত ৪০-৫০ বছরের মধ্যে এই রাস্তায় সংস্কারের জন্য একমুঠো মাটিও ফেলা হয়নি। বর্ষাকাল এলে ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত যেমন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, তেমনি কোনো মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ৬-৭ বছর আগে রাস্তাটির আইডি নম্বর দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কয়েকজন প্রতিনিধি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কর্মকর্তারা বারবার আশ্বাস দিলেও রহস্যজনকভাবে সময়ক্ষেপণ বা ‘তালবাহানা’ করছেন।
চারিতলা গ্রামের বাসিন্দাদের এখন একটাই দাবি এই ‘মরণফাঁদ’ থেকে মুক্তি। তারা অবিলম্বে এই গুরুত্বপূর্ণ ২ কিলোমিটার রাস্তাটি পাকাকরণ বা টেকসই সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত ও অর্থনীতি সচল রাখতে এই রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করা এখন সময়ের দাবি।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

