বাংলাদেশ রেলওয়েতে পুরোনো লক্কর ঝক্কর ইঞ্জিন, ঘনঘন যান্ত্রিক ত্রুটি আর সেই সাথে ইঞ্জিন সংকট বর্তমানে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে চরম যাত্রী দুর্ভোগ। এদিকে সারাদেশে রেল চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যেখানে ৮৫টি ইঞ্জিন প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৭০ শতাংশ। এই ঘাটতির কারণে নিয়মিত ট্রেন বিলম্ব, যাত্রা বাতিল ও যাত্রী ভোগান্তি বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) আহমেদ মাহবুব চৌধুরী জানিয়েছেন, হঠাৎ করে নির্দিষ্ট রুটে রেল ইঞ্জিনের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঈদের পর থেকে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানান, দেশের রেল পরিচালনার জন্য ৮৫টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র প্রায় ৭০ শতাংশ সক্ষমতা। এই ঘাটতির কারণেই অনেক ট্রেন সময়মতো চলতে পারছে না এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
এই পরিস্থিতির উন্নতির আশা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এ সমস্যা সমাধানে একটি নতুন এডিপি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেল অবকাঠামো প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন রেললাইনের অবস্থা অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত করা হয়। তবে কিছু অংশে উন্নয়ন প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের রেললাইন পুনর্বাসনের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি অনুমোদন পেলে রেলসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের ইঞ্জিন সংকট রয়েছে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তবে এই সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, রেলসহ সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। চলমান পরিকল্পনাগুলো সেই গুরুত্বের ভিত্তিতেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের রেলকে লাভবান করতে যাত্রীসেবার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের দিকেও সরকার নজর দিচ্ছে। তবে রেলের সেবা নিশ্চিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এরপরও সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে। কোনো ধরণের দায়িত্বে অবহেলা মেনে নেওয়া যাবে না।
পড়ুন: ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম
আর/


