৮ মে ২০২৬ বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সপ্তম বর্ষে পদার্পণ, প্রায় ২ কোটি প্রবাসীদের অধিকার আদায় ও কল্যাণে নিবেদিত সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ’-এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, রিয়াদ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রুকুনুজ্জামান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন এর যৌথ সঞ্চালনায়, রিয়াদ মহানগরের সভাপতি জনাব রাকিবুল হাসান এর সভাপতিত্বে বাথা সানসিটি মেডিকেল এর হলরুমে “বর্তমান সরকারের নিকট প্রায় ২ কোটি প্রবাসীর প্রত্যাশা” শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা, কেক কাটা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী অধিকার পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি জনাব জামাল উদ্দিন খান, অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব নুরুল হক নুর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সানসিটি মেডিকেল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আবদুল্লাহ আল মামুন, সৌদি আরব শাখার সভাপতি জনাব মঞ্জুর ইসলাম, সহ-সভাপতি জনাব আলী আজম খান, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. আসমাউল হোসাইন, ভার্চুয়ালি আরোও যুক্ত ছিলেন প্রবাসী অধিকার পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সাবেক সভাপতি ইঞ্জি. কবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এসএম সাফায়েত হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য জনাব হানিফ খান সজিব, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সংগ্রামী সভাপতি জনাব নাদিম হাসান, প্রবাসী কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা দুলাল আল মাইজভান্ডারী রিয়াদ মহানগরের সহ-সভাপতি জনাব সোহেল রানা, অর্থ সম্পাদক, জনাব শফিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসীদের ১০ দফা দাবি:
১. মরদেহ পরিবহন: অনিয়মিত, আনডকুমেন্টেড ও অসহায় প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার ‘নীতিমালা-২০২২’-এর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
২. রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব: জাতীয় সংসদে বা উচ্চকক্ষে প্রবাসীদের জন্য ন্যূনতম ১০% সংরক্ষিত আসন সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা।
৩. বিমানবন্দর ও টিকিট সিন্ডিকেট: বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা এবং বিমান টিকিট সিন্ডিকেটমুক্ত করে সুলভ মূল্যে নিশ্চিত করা।
৪. নাগরিকত্ব ও পেনশন: যুগোপযোগী দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন এবং প্রবাসীদের জন্য কার্যকর পেনশন সুবিধা চালু করা।
৫. পাসপোর্ট ও দূতাবাস সেবা: পাসপোর্টে নাম ও বয়স সংশোধনের সহজ সুযোগ এবং দালালমুক্ত ডিজিটাল দূতাবাস সেবা নিশ্চিত করা।
৬. সুরক্ষা আইন ও চিকিৎসা: ‘প্রবাসী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন, প্রতিটি জেলায় প্রশাসনিক সহায়তা কেন্দ্র এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যবীমা চালু করা।
৭. বাজেট ও শিক্ষা: জাতীয় বাজেটে প্রবাসীদের জন্য ৫% বিশেষ বরাদ্দ রাখা এবং পাঠ্যপুস্তকে ‘প্রবাস শিক্ষা’ অন্তর্ভুক্ত করা।
৮. বৈধকরণ ও ভিসা সুবিধা: অনথিভুক্ত প্রবাসীদের বৈধ করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা এবং ঢাকা থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (EU) দেশগুলোর ভিসার ব্যবস্থা করা।
৯. শ্রম কল্যাণ উইং: প্রবাসী অধ্যুষিত দেশগুলোতে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবলসহ ‘শ্রম কল্যাণ উইং’ স্থাপন ও সেবা বৃদ্ধি করা।
১০. অভিবাসন ব্যয় ও ঋণ: সরকারিভাবে (G2G) বিদেশে কর্মী প্রেরণের খরচ সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকায় সীমাবদ্ধ করা এবং প্রবাসফেরতদের জন্য জামানতবিহীন ও সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও তারা সর্বদা অবহেলিত। দেশের সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই ১০ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কর্তন ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
পড়ুন- বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেলার কারণ খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়ের কমিটি


