দীর্ঘ ৩০ বছর অন্ধ স্বামীকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে লড়াই করেছেন হালিমা খাতুন। ভিক্ষা করে স্বামীর মুখে অন্ন তুলে দিলেও মাথার ওপর একটি মজবুত ছাদ গড়া ছিল তার আজীবনের স্বপ্ন। অবশেষে ৮০ বছর বয়সে এসে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন তিনি। সরকারি সহায়তা হিসেবে দুই বান ঢেউটিন হাতে পেয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন এই বৃদ্ধা।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ নিজ কার্যালয়ে হালিমা খাতুনের হাতে এই ঢেউটিন তুলে দেন। হালিমা খাতুন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের স্ত্রী।
টিন হস্তান্তরের সময় (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফ মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি উপস্থিত সদর পিআইও অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল ওয়াদুদ এবং কম্পিউটার অপারেটর মো. আনিসুজ্জামানকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, শুধু টিন দিয়েই যেন দায়িত্ব শেষ না হয়। তারা যেন সরাসরি হালিমার বাড়িতে গিয়ে ঘর তোলার প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা এবং সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করেন।
সহায়তা পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে হালিমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী অন্ধ আছিল। ৩০ বছর ভিক্ষা কইরা তারে খাওয়াইছি। তার পক্ষে ঘর তোলা কোনোদিনও সম্ভব আছিল না। তিন বছর আগে তিনি মারা গেছেন। আজ সরকারের এই সহযোগিতায় টিন পাইছি, এখন শান্তিতে থাকতে পারবো।
টিন বিতরণের সময় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের মতে, হালিমার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রশাসনের প্রকৃত সাফল্য।


