দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ সুইট।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে শহরের আমলাপাড়ায় তার নিজস্ব কার্যালয়ে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ঘোষণা করেন।
মতবিনিময় সভায় আবু সাঈদ সুইট বলেন, আমি আমার বাবার হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান করি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে আজকের এই অবস্থানে এসেছি। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। দলের দুঃসময়ে কখনও মাঠ ছাড়িনি। অসংখ্য মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে গেছি। আমি জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘ ৯ মাস জেলহাজতে থাকি। পাবনা জেলা খানায় ১ মাস ও নোয়াখালিতে ৯ মাস হাজতে থাকি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের নিকট নিযাতিত হয়। ২০০৭ সালে তত্বাবধাক সরকারের সময় র্যাব রাতে আমাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে স্বৈরাচার ফ্যাসিস আওয়ামীলীগ সরকার আমার ব্রীজের পাটাতন তোলার ঘটনায় আদালতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আমাকে যাবতজীবন কারাদন্ড দেন। ২৪ গণআন্দোলনে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রাজপথে মাঠে নেমে স্বৈরাচার ফ্যাসিস আওয়ামীলীগ সরকারের পতন ঘটনো হয়। বিগত ১৬ বছরে আমার নামে রাজনীতির প্রায় ৫০টির বেশি মামলা রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির একজন নির্যাতিত ও পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমার ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার মূল্যায়ন করবেন। আগামী জেলা বিএনপির কাউন্সিলে দেশনায়ক তারেক রহমান যদি আমাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেন, তাহলে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবো।
বক্তব্যে তিনি বিএনপির বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, বিএনপির আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি হতে হয়েছে তাকে। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনেও থাকতে হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রশাসনিক চাপ ও হয়রানির মুখেও পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আবু সাঈদ সুইট বলেন, দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারকারী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের এখনই সময়। আমি সবসময় চাই সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপিকে একটি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও গতিশীল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে। ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই রাজনীতি করছি।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং জেলার সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতামত ব্যক্ত করেন।
পড়ুন:‘থার্ড টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়বে
দেখুন:অক্টোপাস ‘পল’ থেকে জাদুকরদের ভবিষ্যদ্বাণী-বিশ্বকাপের সবচেয়ে পাগলাটে গল্প |
ইমি/


