পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৬ মে) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দরের একটি সার ও কীটনাশকের দোকান ‘কাজী ট্রেডার্স’-এ প্রথম আগুনের সূত্রপাত দেখতে পান তারা। পরে দোকান মালিক ও স্থানীয়দের চিৎকার এবং মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন।
খবর পেয়ে নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে বিশাল সন্ধ্যা নদী পার হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে বলে জানা গেছে। পরে বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিসের আরও একটি ইউনিট যোগ দিলে দুই ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনে সার ও কীটনাশকের তিনটি, রশি ও কাছির ১০টি, মুদি ও মনোহারি দুটি, ক্রোকারিজ ও হার্ডওয়্যারের দুটি, চা-পানের দুটি দোকান এবং একটি সেলুনসহ মোট ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও একই মিয়ারহাট বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়। বারবার এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যা নদীর পশ্চিমপাড়ে দ্রুত একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।


