সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের তৃতীয় শ্রেণীর একদল কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কলেজের সরকারি কম্পিউটার, প্রিন্টার ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে ভর্তি বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।
সরেজমিনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাইরে থেকে অনলাইনে ভর্তি ফি জমা দিয়ে ভাউচার নিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মচারীরা তা গ্রহণ করতে চান না। “পেমেন্ট ভুল হয়েছে” বা “বাইরের পেমেন্ট গ্রহণযোগ্য নয়” এমন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের পুনরায় কলেজের ভেতর থেকেই টাকা জমা দিতে বাধ্য করা হয়। এ সময় নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কম্পিউটার ও ফটোকপি ব্যবসায়ীরা জানান, কলেজের কর্মচারীরা সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কলেজের সরকারি সরঞ্জাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এতে বৈধ লাইসেন্স ও কর-ভ্যাট দিয়ে ব্যবসা পরিচালনাকারী স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এ ঘটনায় কলেজের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ইব্রাহিম হোসেন শিমুলের নাম সামনে এসেছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে কলেজের প্রধান সহকারী মোঃ ফারুক হোসেন খান বিভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা ফি নির্ধারণের বিষয়টি স্বীকার করলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মহীদুল হাসান বলেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অভিযোগ আর না ওঠে সেজন্য ক্যাম্পাসের ভেতরে সোনালী ব্যাংকের একটি বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক বুথ চালু হলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে ভর্তি ফি জমা দিতে পারবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


